Published : 07 Jul 2025, 11:52 PM
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মা ও ছেলেমেয়েকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার আগে নিখোঁজ হওয়া বোরহান উদ্দিন এখনও বাড়ি ফেরেনি, তবে পুলিশ বলছে, তিনি ঢাকায় আছেন।
বোরহানউদ্দিন বাঙ্গরাবাজার থানার কড়ইবাড়ি এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে। ১ জুলাই মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় মারধরের শিকারের পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।
বাঙ্গরাবাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, বোরহানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তিনি ঢাকায় আছেন। তার বাবা কুমিল্লায় আছেন।
১ জুলাই চুরির ঘটনায় মারধরের শিকারের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বোরহান উদ্দিন। পরদিন ২ জুলাই বোরহান উদ্দিনের সন্ধান চেয়ে থানায় অভিযোগ করেন তার বাবা।
বোরহানের খোঁজ নিতে বাড়িতে গেলেও পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।
বোরহান উদ্দিনের ছোট বোন পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা আমরিন আক্তার বলেন, কয়েকদিন ধরে তার বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তারা কোথায় আছেন, তিনি জানেন না। বাড়িতে শুধু দাদা-দাদি আছেন।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সদস্য মাহমুদুল বলেন, বোরহানের বাড়িতে তার বাবা-মা নেই। পাশেই বোরহানের বোন থাকেন, তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে শুনেছেন তিনি।
থানায় করা বোরহানের বাবার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ১ জুলাই স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া ফোন করে তাকে জানান, মোবাইল চুরির অভিযোগে রবিউল আউয়াল, মো. বাসির মিয়া, মো. জিলানীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও আট থেকে দশজন বোরহানউদ্দিনকে মারধর করে এক লাখ টাকা জরিমানা দাবি করেছেন।
জরিমানার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বোরহানউদ্দিনকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন জসিম উদ্দিন।
এদিকে ৪ জুলাই কড়ইবাড়ি এলাকায় মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে রোকসানা বেগম রুবি (৫৩), তার ছেলের রাসেল মিয়া (৩৫) ও মেয়ে জোনাকি আক্তারকে (২৯) গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে করইবাড়ি এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে।
তিনজন হত্যার ঘটনায় রুবির মেয়ে রিক্তা আক্তার ৩৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ জনকে বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
রিক্তা আক্তার বলেন, “বোরহানকে যখন তারা মারছিল, তখন তার বাবা জসিম আমার মায়ের কাছে বোরহানকে উদ্ধারের জন্য সহযোগিতা চায়। তখন আমার মা বোরহানকে ছাড়িয়ে আনতে গেলেই বিবাদ বাধে।”
জোনাকির স্বামী আলমগীর হোসেন মনির বলেন, “বোরহান কই আছে আমরা জানি না। ঘটনার পর থেকে তাদের খোঁজ নাই। এমনও হতে পারে তারা ভয়ে বাড়ি ফিরছেন না। কারণ যারা মামলার আসামি, তারা সবাই ধরা পড়েনি।”
এদিকেই বোরহান নিখোঁজের ঘটনায় যাদের নামে অভিযোগে করা হয়েছে তারা রুবি ও তার ছেলে-মেয়েকে হত্যা মামলার আসামি। এ মামলায় গ্রেপ্তার আটজনকে সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে একটি বাড়িতে মাদক কারবার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে কিছু লোক হামলা চালায়।
হামলায় ওই গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমানের স্ত্রী রুবি, তার ছেলে রাসেল ও মেয়ে জোনাকি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হয়েছেন রুবির মেয়ে রুমা আক্তার। তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন
মা-ছেলেমেয়েকে হত্যা: প্রথমে রাজি হলেও পরে 'স্বীকারোক্তি দেননি'
কুমিল্লায় মা ও ছেলেমেয়েকে পিটিয়ে হত্যা: আরও ছয়জন গ্রেপ্তার
কুমিল্লায় মা ও ছেলেমেয়েকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
মা ও ছেলেমেয়েকে পিটিয়ে হত্যা: থমথমে কড়ইবাড়ী পুরুষশূন্য
মা ও ছেলেমেয়েকে পিটিয়ে হত্যা: 'সন্ধ্যায় পরিকল্পনা, সকালে হামলা'