Published : 24 Aug 2026, 09:54 PM
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবেশীকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতে নিজের সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে হত্যা করেছিলেন বাবা। এ ঘটনার ১২ বছর পর তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় দেন বলে জানান মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী তোফায়েল আহমেদ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শরীফ আলী কমলগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ভানুবিল গ্রামের আরিফ মিয়ার ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মামলার বরাতে আইনজীবী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টার দিকে পূর্ব ভানুবিল গ্রামের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল সাড়ে তিন বছরের শিশু রুনা। এ সময় ধারালো দা দিয়ে তার গলায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরে শরীফ আলীর স্ত্রী ও রুনার মা নেকজান বিবি প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন। তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
নেকজান বিবি বলেন, তার মেয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শরীফ আলী দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে তাকে চুপ থাকতে বলেন এবং পুলিশকে প্রতিবেশী সালেক মিয়ার নাম বলতে বলেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, প্রতিবেশী সালেক মিয়ার সঙ্গে শরীফ আলীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে সালেক মিয়াকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে হত্যা করেন তিনি।
শরীফ আলী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
আইনজীবী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মামলাটি ১২ বছর ধরে চলেছে। সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত শরীফ আলীকে মৃত্যুদণ্ড মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।