১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পাবনায় পদ্মার পানি বেড়ে চারণভূমি প্লাবিত, গো-খাদ্যের সংকটে খামারিরা

“চরের খামারিরা মূলত প্রাকৃতিকভাবে গজানো ঘাসের ওপর নির্ভর করেই পশু পালন করেন।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Sep 2026, 05:32 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পাবনার সদর, ঈশ্বরদী ও সুজানগর উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। এতে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র গো-খাদ্য সংকট।

চারণভূমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শত শত গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও রাখালেরা। চরাঞ্চলে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ায় পশুর পাল নিয়ে নদীপাড়ের উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। বৃহস্পতিবার সেখানে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার নিচে।

বর্তমানে পাকশী পয়েন্টে পদ্মায় ১৫ লাখ ৭০ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

চরাঞ্চলের খামারিরা বলছেন, স্বাভাবিক বর্ষায় চরে পানি উঠলেও তা দ্রুত নেমে যায়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত এক দশকের মধ্যে এমন সংকটে পড়তে হয়নি বলে দাবি তাদের।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু তালেব প্রামাণিক বলছেন, “খাদ্য সংকট মোকাবিলায় খামারিদের কেনা ভুষি, ধৈঞ্চা, আখ, গমের খোসা ও গামা ঘাস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

সাঁড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের খামারি আবুল মিয়া তার ২৮টি মহিষ নিয়ে চার দিন ধরে লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “প্রতিবছর ১৫ দিন বা এক মাসের মধ্যে পানি নেমে গেলেও এবার চর থেকে পানি পুরোপুরি নামতে সময় লাগবে। এরপর নতুন ঘাস গজাতে লাগবে আরও এক মাস। ফলে আমাদের এই দুর্ভোগ এবার দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে।”

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের পাকড়িযয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, “চরের খামারিরা মূলত প্রাকৃতিকভাবে গজানো ঘাসের ওপর নির্ভর করেই পশু পালন করেন। বাজার থেকে বাড়তি দামে কেনা গো-খাদ্য কিনে খাওয়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য অধিকাংশ খামারিরই নেই। চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় তাদের আয় ও পশুর খাদ্য সংগ্রহের পথ পুরোপুরি বন্ধ।”

ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর, লক্ষ্মীকুণ্ডা, পাকশী ও সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মাতীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে গো-খাদ্য সংকট দূর করতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমলাক হোসেন বাবু।

তিনি বলেন, স্থানীয় খামারিদের গবাদি পশুর খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে ইউপির মাসিক সভায় বিশেষ পদক্ষেপ ও বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু তালেব প্রামাণিক বলছেন, “চরাঞ্চলের প্রায় সব খামারি তাদের গবাদি পশু নিরাপদে সরিয়ে নিতে পেরেছেন। 

পাশাপাশি এ সময়ে গবাদি পশুর রোগবালাই প্রতিরোধে চিকিৎসাসেবা, জরুরি টিকাদান এবং বিনামূল্যে কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “প্লাবিত ও নিচু অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে এলাকাগুলোতে গবাদি পশুর সংখ্যা বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাদ্য সাহায্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।”