১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চরের স্কুলে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির অভিযোগে লাঠি হাতে শিশুদের প্রতিবাদ

শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসার দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেছে।

চরের স্কুলে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির অভিযোগে লাঠি হাতে শিশুদের প্রতিবাদ
আলগা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 09:09 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার চরাঞ্চলের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত না আসার অভিযোগে লাঠি হাতে প্রতিবাদ করেছে শিশু শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকালে উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় খেয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম, মাজেদুল ও সামসুন্নাহার বলেন, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে না আসায় ঠিকমত ক্লাস হয় না। সোমবার সকালে তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে শ্রেণিকক্ষগুলো বন্ধ দেখতে পায়। পরে লাঠি হাতে নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ করে। 

এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বন্ধ শ্রেণিকক্ষের দরজায় লাথি মারতেও দেখা যায়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, দিনের পর দিন শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে আসেন না। সময়মত ক্লাসও হয় না। শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসার দাবিতে তারা প্রতিবাদ করেছে।

স্থানীয় অভিভাবক আল আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির এমন অবস্থা। পাঁচজন শিক্ষকের কেউ নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। 

প্রধান শিক্ষক ইসরাত জাহান দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাত জাহানকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, শিক্ষকরা শহরে থাকেন। তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না এবং এলেও দ্রুত চলে যান। ফলে ঠিকমত পাঠদান হয় না।

তিনি বলেন, চরাঞ্চলের এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে শিশুরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। শিক্ষকরা কেন বিদ্যালয়ে যাননি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।