Published : 07 Aug 2026, 01:24 PM
কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের একটি 'নির্ভুল তালিকা' প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
একই সঙ্গে টেকনাফে অপহরণ ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে দুটি নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন।
দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার সকালে তিনি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেখানে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধনে অংশ নেবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক শীর্ষ মাদক কারবারিদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকা তৈরির পর সেটির ভিত্তিতে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির নেতৃত্বাধীন ওই টাস্কফোর্সে সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, ডিজিএফআই, এনএসআই, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
ইয়াবার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দেশে মাদকের মধ্যে ইয়াবার বিস্তার সবচেয়ে বেশি এবং এর কারণে যুবসমাজের একটি বড় অংশ মাদকাসক্তির ঝুঁকিতে পড়ছে।
“মাদক চোরাচালান, মাদকের প্রসার রোধ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ আমাদের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এর পাশাপাশি জুয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মন্ত্রী বলেন, “যেসব রুট দিয়ে মাদক চোরাচালান হয় বলে চিহ্নিত হয়েছে, সেসব এলাকায় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নদী ও সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়াতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগে স্থাপন করা অনেক সিসিটিভি ক্যামেরা বর্তমানে অকেজো বা নষ্ট হয়ে গেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সেগুলো পুনরায় সচল করা হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পে ইয়াবা পাচারের বাহক হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া নাফ নদী ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদারে টেকনাফের জেলেদের এবং তাদের ব্যবহৃত নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এর ফলে নদীপথে চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ শনাক্ত করা সহজ হবে। অপহরণ ঠেকাতে দুই সেনা ক্যাম্প টেকনাফে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া অপহরণের ঘটনাও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহীন চৌধুরী পাহাড়ি এলাকায় বেসামরিক লোকজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। আলোচনায় জানা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব ঘটনার সঙ্গে মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
"অপহরণের ঘটনা রোধে সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করা হয়েছে। জিওসি দুইটি ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হবে," বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এর ফলে নাফ নদীপথে চোরাচালান ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ শনাক্ত করা সহজ হবে।
টেকনাফে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া অপহরণের ঘটনাও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অপহরণের ঘটনা রোধে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জিওসি দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনে সম্মতি দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনের আওতায় ডগ স্কোয়াড চালু, অভিযানে অংশ নেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষার জন্য পৃথক ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি জেলায় পৃথক হাজতখানা ও মালখানা স্থাপন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে কি-না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।