২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় দেয়াল ধসে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া সাততলা ভবনটির নির্মাণকাজ চলছিল বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের প্রধান।

কুমিল্লায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় দেয়াল ধসে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কুমিল্লা নগরীতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় বিদ্যালয়ের পাশের নির্মাণাধীন সাততলা ভবনের দেয়ালে ধস।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 May 2024, 05:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:39 AM

কুমিল্লা নগরীতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় বিদ্যালয়ের পাশের নির্মাণাধীন সাততলা ভবনের দেয়াল ধসে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন শিক্ষক ও অন্য শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে নগরীর নোয়াগাঁও চৌমুহনী এলাকার নূর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাদেমুল বাহার।

নিহত সাইফুল ইসলাম সাগর (১২) নগরীর শাকতলা এলাকার অলি হোসেনের ছেলে। সে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে সাততলা একটি ভবনের নির্মাণ কাজ চলছিল। ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি ও বাতাস বইছিল। এর মধ্যে সাইফুল সকালে বিদ্যালয়ে যায়।

শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় পাশের ভবনের দেয়াল ধসে বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘরের ওপর পড়ে। এতে চাল ভেঙে সাইফুলের মাথায় পড়লে সে আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অল্পের জন্য রক্ষা পায় ওই ক্লাসে থাকা অন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।

নূর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. আশিকুর রহমান বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস চলছিল। হঠাৎ স্কুলের পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন ভবনের দেয়ালের একটি অংশ টিনের চালায় ভেঙে পড়ে। এতে স্কুলের চেয়ার-টেবিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ সময় ইটের আঘাতে আহত হয়ে সাইফুল মারা গেছে।

প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, “কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই ভবনটির নির্মাণকাজ চলছিল। নির্মাণকারীদের অবহেলার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

কুমিল্লা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাসেল খান বলেন, সাগরের মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে নেওয়া আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাগরের বাবা অলি আহমেদ বলেন, “সকালে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যালয়ে যায় সাগর। লোকমুখে ভবন ধসে পড়ার খবর শুনে বিদ্যালয়ে এসে দেখি আমার ছেলে আর নেই। এখন আমি কি নিয়ে বাঁচব?”

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ পরিদর্শক খাদেমুল বাহার বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।