ইতালিতে স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে খুন: ৫০ দিন পর লাশ এনে নোয়াখালীতে দাফন
রোম থেকে বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনজনের লাশ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়; পরে তাদের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
ইতালির রাজধানী রোমে ছুরিকাঘাতে নিহত একই পরিবারের তিনজনের লাশ ঘটনার ৫০ দিন পর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের হৃয়নগর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয় বলে জানান কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নূরুল হাকিম।
নিহতরা হলেন- কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু (৩৮) ও তাদের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আরিশা।
এদিন বিকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাদের জানাজা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে তাদের দাফন করা হয়।
জানাজায় কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম ও একমাত্র ছেলে অয়ন (১৮) পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া চান। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
পুলিশ জানায়, ২৬ জুন রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি পার্কসংলগ্ন ফ্ল্যাটে ছুরিকাঘাতে কামাল, তার স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় আহত অয়নকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আবদুল আহাদের ছেলে শাহাদাত হোসেনের ছবি প্রকাশ করে রোমের প্রসিকিউটর কার্যালয়।
ওসি নূরুল হাকিম বলেন, “বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, শাহাদাত হোসেন যুক্তরাজ্য থেকে ইতালি গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। দেশে থাকাকালীন তার সঙ্গে এই পরিবারের সম্পর্ক ছিল। ইতালিতেও তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তবে তাদের মধ্যে কি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তা নিশ্চিত নয়।”
তিনি বলেন, “দেড় বছর আগে কামাল দেশে ফেরার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে, আমরা তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি। পরে জানতে পারি, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে শাহাদাত হোসেন তাদের হত্যা করেছেন।
“কামালের ছেলে অয়ন খুব কাছ থেকে বাবা, মা ও বোনের লাশ দেখে দেশে ফিরেছে। আমরা এই পরিবারের নিরাপত্তায় পাশে আছি।”
আরও পড়ুন:
