১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বগুড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় মুদি দোকানিকে হত্যা, ২ যুবককে মৃত্যুদণ্ড

এ মামলায় আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বগুড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় মুদি দোকানিকে হত্যা, ২ যুবককে মৃত্যুদণ্ড
বগুড়া আদালতে রায় ঘোষণা শেষে আসামিদের কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 03:46 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:02 PM

বগুড়া শহরে চাঁদা না দেওয়ায় এক মুদি দোকানিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) এস এম মাসুদুর রহমান স্বপন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়ারা হলেন- সদর উপজেলার ধাওয়াপাড়া এলাকার টিয়া মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন (২৩) এবং আসলামের ছেলে রাব্বি (২৪)। 

যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়ারা হলেন- একই এলাকার মমতাজের ছেলে আশিক (২২), মনু মিয়ার ছেলে মো. শাকিল (২৩) এবং সাফির ছেলে মতিন (২৫)। 

এপিপি স্বপন বলেন, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার কৈপাড়া এলাকায় হাফেজ রাকিবুল হাসান হৃদয়ের (২৮) মালিকানাধীন ‘হৃদয় ভ্যারাইটি স্টোরে’ আসামিরা ঈদ উপলক্ষে চাঁদা দাবি করেন। 

চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা ধারাল অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে হৃদয় ও তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মামুনুর রশীদকে (৫৮) ছুরিকাঘাত করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয় মারা যান।

এ ঘটনায় হৃদয়ের মা মোছা. আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে পাঁচজনের নামসহ অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন বলে জানান পিপি।

তদন্ত শেষে পুলিশ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্বপন।

১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে স্বাধীন ও রাব্বিকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকিদের যাবজ্জীবনের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয় বলে জানান এপিপি। 

রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানান হৃদয়ের মা আয়শা সিদ্দিকা। 

তিনি বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিল। ঈদের আগের দিন ওরা আমার ছেলেকে খুন করে। আর ঈদের পরের দিন আমার ছেলের এক পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। যে শিশু কোনও দিন তার বাবাকে দেখতে পাবে না।” 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন বাদী আয়শা সিদ্দিকা।