Published : 09 Feb 2026, 07:25 PM
গাজীপুর মহানগরে বকেয়া বেতনের দাবিতে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে মহাসড়কের দুই দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
সোমবার দুপুরে নগরের কলমেশ্বর এলাকায় অবরোধের এক পর্যায়ে বিকালে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় গ্রেনেডের আঘাতে কয়েক নারী শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ইউনিক ডিজাইনের শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের ইন্সপেক্টর আজাদ রহমান। তবে শ্রমিক আহতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
ওই কারখানার শ্রমিক মুক্তা বলেন, প্রতি মাসে তাদের বেতন দিতে দেরি করা হয়। নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে পোশাক কারখানা চার দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। ছুটির আগে জানুয়ারির বেতন দাবি করেন শ্রমিকরা।

কারখানা কর্তৃপক্ষ বেতন দিতে দিতে রাজি না হওয়ায় শ্রমিকরা এদিন দুপুর ১টা থেকে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন বলে জানান তিনি।
পোশাক কারখানার কর্মচারী রাইসুল ইসলাম ডানা বলেন, নির্বাচনের বন্ধে শ্রমিকরা বাড়ি যাবে। মাস শেষে খালি হাতে কীভাবে যাবে; তাই বেতন দাবি করছেন তারা।
অপর শ্রমিক হাসি বেগম বলেন, “পুলিশ আমাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছে। তারা গ্রেনেড ও গুলি ছুড়েছে। এতে কারখানার সুয়িং সেকশনের অপারেটর তামান্না ও রিনা মোরশেদাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।”
পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কারখানার মেডিকেল শাখায় পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ইউনিক ডিজাইন কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ইদানীং কারখানার উৎপাদন কমে গেছে। তারপরও শ্রমিকদের বেতনের টাকা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুই হাজারের বেশি শ্রমিকদের জন্য প্রায় সাত কোটি টাকা দরকার।
“তাদের কাছে আছে মাত্র ৭০ লাখ টাকা। এ টাকায় কয়জনকে বেতন দেওয়া যাবে। কর্তৃপক্ষ আগামী রোজার আগে বেতন ও ঈদের বোনাসসহ টাকা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের চার দিনের ছুটির আগে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”

এদিকে শ্রমিকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। অনেক যাত্রীকে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
অবরোধের কারণে দুর্ভোগে পড়েন নগরের ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের প্রভাষক মো. হারুন অর রশিদ।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে তার দায়িত্ব পড়েছে টঙ্গীর পাগার এলাকার একটি মাদ্রাসায়। কেন্দ্র পরিদর্শনে দুপুরে সেখানে যেতে সহকর্মীকে নিয়ে সদর উপজেলার মাস্টার বাড়ি এলাকা থেকে বাসে উঠেন রশিদ।
পথে মালেকের বাড়ি এলাকায় তার বাসটি যানজটে পড়ে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিকল্প পথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে রওনা দেন তারা।
শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর আজাদ রহমান বলেন, শ্রমিকরা জানুয়ারির বেতনের দাবিতে রাস্তায় নামেন। পরে কয়েক দফা তাদের বুঝিয়ে কারখানার ভেতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তারা আবার মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে বিকাল ৪টার দিকে বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে মহাসড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান শিল্প পুলিশের এ কর্মকর্তা।