Published : 09 Jan 2024, 04:14 PM
একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসাসহ পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তাই ব্যাংক ঋণ আর জমি বিক্রির টাকায় ছেলেকে ব্যবসার জন্য দোকান ভাড়া করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ব্যবসার অবস্থাও ভালো না।
এর মধ্যেই রোববার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান গাজীপুরের কালীগঞ্জের জামালপুর সিদ্দিকিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার আব্দুল করিম।
আকস্মিক এই ঘটনায় যেন অকূল পাথারে নিমজ্জিত হয়েছে ৫৫ বছর বয়সী এই মাদ্রাসা শিক্ষকের পরিবার।
সোমবার বিকালে কালীগঞ্জ উপজেলার মুক্তারপুর ইউনিয়নের পোটান গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা (৫০) শয্যাশায়ী এবং চরম শোকে কাতর হয়ে আছেন ছেলে-মেয়েরা।
আব্দুল করিমের তিন সন্তান। এর মধ্যে বড় ছেলে মো. শামীম সম্প্রতি ব্যবসা শুরু করেছেন। দেড়মাস আগে ১৫ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ ও একখণ্ড জমি বিক্রির টাকায় তাকে দোকান ভাড়া করে দিয়েছিলেন বাবা আব্দুল করিম।
ছোট ছেলে সাকিবুল হাসান টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার আলিম বর্ষে লেখাপড়া করেন।
একমাত্র মেয়েটির বিয়ে হয়েছে গাজীপুর মহানগরের উত্তর খাইলকুর এলাকায়। তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকেন।
শামীম জানান, এতো দিন তাদের বাবাই পরিবারকে একা হাতে টেনে নিয়েছেন, তাদের আগলে রেখেছেন। তার নতুন ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না। এর মধ্যে হঠাৎ বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
“এ অবস্থায় মেরুদণ্ডের হাড়ক্ষয়, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শয্যাশয়ী মায়ের চিকিৎসা খরচের টাকা যোগানোসহ সংসার খরচ নিয়ে টেনশনে কাটছে প্রতিমুহূর্ত। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংক ঋণ পরিশোধের চাপ।”
পরিবারের উপার্জনক্ষম বাবার অকাল মৃত্যুতে নিজের লেখাপড়া করা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন ছোট ছেলে সাকিব।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর মহানগরের উ. খাইলকুর এলাকার জামিয়া রশিদিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছিলেন আব্দুল করিম।
ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. হেলাল মিয়া জানান, আব্দুল করিম ভোটের আগের দিন শনিবার রাতেই কেন্দ্রের কাজে যোগ দেন। রোববার সকাল সোয়া ৭টার দিকে বাইরে নাস্তা সেরে কেন্দ্রে ফেরার পথে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, আব্দুল করিম নির্বাচনের কাজে গিয়েছিলেন। নির্বাচন শুরুর আগেই তিনি মারা গেছেন। তার পরিবারের যে কোনো প্রয়োজনে সহায়তা করা হবে।