২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

লালমনিরহাটে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বীর প্রতীককে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ

বীর প্রতীক আজিজুল হকের অভিযোগ, “প্রতি বছর জাতীয় দিবসে সরকারি কর্মসূচিতে যাই কিন্তু এবার দাওয়াত কার্ড না পাওয়ায় যাইনি।”

লালমনিরহাটে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বীর প্রতীককে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ
লালমনিরহাট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Mar 2026, 08:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:15 PM

লালমনিরহাটে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডসহ জেলায় একমাত্র জীবিত খেতাব পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাকে আমন্ত্রণ না জানানো অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

তবে জেলা প্রশাসকের দাবি আমন্ত্রণপত্র বিতরণের বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য লালমনিরহাট জেলায় দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পান। তাদের মধ্যে একজন প্রয়াত ক্যাপ্টেন তমিজ উদ্দিন বীর বিক্রম এবং অন্যজন বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক। 

স্বাধীনতার পর থেকেই লালমনিরহাটের প্রতিটি জাতীয় দিবসে উপস্থিত থাকতেন আজিজুল হক। তবে এবারের ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে তার অনুপস্থিতি জেলাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার পাশাপাশি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এস এম শফিকুল ইসলাম কানুর অভিযোগ, “অন্যান্য বছরের মতো এবার আমিসহ ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডকে দাওয়াত করেনি জেলা প্রশাসন। জেলায় একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাওয়াত না দেওয়া লজ্জাজনক।”

বীর প্রতীক আজিজুল হকের অভিযোগ, “প্রতি বছর জাতীয় দিবসে সরকারি কর্মসূচিতে যাই কিন্তু এবার দাওয়াত কার্ড না পাওয়ায় অনুষ্ঠানে যাইনি। আর আমি না যাওয়ায় পরিবারসহ বিভিন্নজনের প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি; যা আমার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

তিনি বলেন, “বর্তমান জেলা প্রশাসক একজন ‘রাজাকার’ তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে চাননি বলে দাওয়াত দেননি।”

ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক দাবি করে লালমনিরহাট সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সূফী মোহাম্মদ বলেন, “এটি কেবল একজন ব্যক্তির অপমান নয় বরং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবমাননা।”

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “জেলা প্রশাসন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০০টি আমন্ত্রণপত্র বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেগুলো মুক্তিযোদ্ধাদেরই বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা কাকে দাওয়াত দিয়েছেন আর কাকে দেননি, সেটা ওনারই ভালো জানেন।”