Published : 29 Sep 2025, 11:26 PM
আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি—আরসা ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে (আরএসও) সহায়তার যে অভিযোগ আরাকান আর্মি (এএ) তুলেছে, তা ‘বিভ্রান্তিকর’ দাবি করেছে বিজিবি।
সোমবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বলেছে, বিজিবি সবসময় আরসা ও আরএসওকে সীমান্তের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি মনে করে। এ কারণে তাদের কার্যক্রম দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি সংগঠনটির শীর্ষ নেতা আতাউল্লাহ জুনুনিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয় বিবৃতিতে।
বিজিবি বলছে, “ইউএলএ অভিযোগ করেছে যে, বিজিবি নাকি আরসা ও আরএসওকে মদদ দিচ্ছে। কিন্তু বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই অভিযোগ বিভ্রান্তিকর।
“বিজিবির দায়িত্ব জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর উপস্থিতির বোঝা সামলানো। মিয়ানমারের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিজিবি সীমান্তে টহল জোরদার করে। নাফ নদী থেকে বান্দরবান-কক্সবাজারের পাহাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত নানা স্থানে সেনা সদস্যরা এখন ছয় ঘণ্টা করে পালাক্রমে টহল দিচ্ছেন। অতিরিক্ত অস্ত্র, সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন করে সীমান্ত সিলগালা করার চেষ্টা চলছে, যেন পাচারকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রবেশের সুযোগ না পায়।”
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আরও বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাইন বিপর্যয় মোকাবিলায় বিজিবি লাল পতাকা টাঙিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা দিয়েছে।
বিজিবির বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর মংডু এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে আরাকান আর্মি নিজেই গভীর সংকটে পড়েছে। মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ, মনোবল ভাঙন ও সেনাদের মানসিক ক্লান্তি- সব মিলিয়ে অনেক যোদ্ধা দলত্যাগ করেছে।
“নতুন সদস্য সংগ্রহে অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর মানুষকে যুক্ত করলেও ভাষাগত বাধা, ভূমি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও যুদ্ধের অনিচ্ছা তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে। বুথিডং অঞ্চলের খাদ্যসংকট পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে, যার ফলে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করছে।”
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, আরাকান আর্মি (এএ) শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, ম্রো ও তঞ্চঙ্গ্যাসহ ছোট নৃগোষ্ঠীগুলোকেও নির্যাতন করছে। এমনকি চাঁদা না দিলে রাখাইন জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও হয়রানি, হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। অনেকে এ অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
বিজিবির ভাষ্য, আরসা ও আরএসওকে উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা হয়েছে; ইয়াবা পাচার রোধে নজরদারি চলছে।
“গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে প্রবেশ করে, বাংলাদেশ থেকে নয়। তাছাড়া সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি মাইন পুঁতে রাখায় আরসারর অবাধ চলাচলের অভিযোগ অবাস্তব।”
বিজিবি বলছে, ইউএলএ’র এসব অভিযোগ আসলে নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতন ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড আড়াল করার কৌশল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বাস্তবতা স্বীকার করে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানায় বিজিবি।
বিজিবির বক্তব্য, তারা কখনই উগ্রপন্থিদের সঙ্গে আঁতাত করেনি, বরং মানবিক দায়িত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সতর্কতা, কূটনীতি ও সহানুভূতির পথেই এগিয়ে চলেছে।
আরও পড়ুন
‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলায় বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ‘উসকানি’ আছে: আরাকান আর্মি