১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গাইবান্ধায় কুলখানির দাওয়াত খেয়ে দুই শতাধিক মানুষ হাসপাতালে

অসুস্থদের মধ্যে দুইজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গাইবান্ধায় কুলখানির দাওয়াত খেয়ে দুই শতাধিক মানুষ হাসপাতালে
কুলখানির দাওয়াত খেয়ে অসুস্থ কয়েকজন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Feb 2025, 09:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:51 AM

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় কুলখানির দাওয়াত খেয়ে শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সের দুই শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত অন্তত ২০০ জন জেলা উপজেলাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ আরিফা খানম। 

অসুস্থদের মধ্যে দুইজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রোববার সকালে উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী রিফাইতপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক মো. বেলাল হোসেনের মায়ের ৪০তম (চল্লিশা বা কুলখানি) দিনের অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও স্বজনরা জানান, কুলখানিতে বেলালের স্বজন ও এলাকাবাসীসহ প্রায় এক হাজার মানুষ অংশ নেন। সকালে খাবার খাওয়ার পর ওইদিন মধ্যরাত থেকে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকে প্রাথমিকভাবে বাড়িতে চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন সোমবার সকাল থেকে হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকেন।

অসুস্থরা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল, পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন আব্দুল হাই। তিনি বলেন, “দাওয়াত খাওয়ার পর রাত থেকে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ডায়রিয়া শুরু হয়। আমাদের আরও অনেক আত্মীয় এখানে চিকিৎসাধীন।”

আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী মিম আক্তার বলেন, “দাওয়াতে ভাত, গরুর গোস্ত ও আটার ডাল খাওয়ানো হয়। মধ্যরাত থেকে ডায়রিয়া ও বমি শুরু হয়। আবার কারও দুপুর থেকে শুরু হয়। এর মধ্যে অনেক শিশু ও বৃদ্ধও রয়েছে।”

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদা মিয়া, খালেদা আক্তার, সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকেই একই কথা বলেছেন।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ আরিফা খানম বলেন, সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ১২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫১ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় কারণে তারা অসুস্থ হয়েছেন বলে জানান এই চিকিৎসক।

ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মজলিসের আটার ডাল খেয়ে তারা অসুস্থ হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ৬৫ জন বিভিন্ন বয়সি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

“স্বল্প জনবল দিয়ে তাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে”, বলেন তিনি।