Published : 17 Sep 2026, 02:56 PM
পাবনায় নিখোঁজের সাত দিন পর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হওয়া শিশু হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজনকে হত্যাকাণ্ডের ‘মূলহোতা’ বলছে পুলিশ।
বুধবার আটক করা হলেও অনুসন্ধানে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ ও স্বীকারোক্তি পেয়ে বৃহস্পতিবার তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মোস্তফা প্রামাণিক (৪০) ও ইয়াসিন আলী (২৮)। তারা নিহত স্কুলছাত্রীর প্রতিবেশী।
ওসি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, শিশুটিকে ধর্ষণের পর বিষয়টা জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
নিহত ১০ বছর বয়সি মেয়েটি গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে বাবার সঙ্গে স্থানীয় বাজারে যায়। বাজার শেষে বাড়ি ফিরে কেনাকাটার ব্যাগ মায়ের হাতে বুঝিয়ে দিয়েই বাড়ির পাশে খেলতে যায় সে। তবে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও সে আর ঘরে ফেরেনি।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে তার জুতো জোড়া পড়ে থাকতে দেখা গেলেও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তার সন্ধানে স্বজনরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো ছাড়াও মঙ্গলবার পাবনা শহরে মানববন্ধন করেন, পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন।
পরে বুধবার সকালে স্থানীয়রা খবর দিলে বাড়ির পাশের ডোবায় থেকে শিশুটির খণ্ড-বিখণ্ড বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
এদিকে চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে ‘আমার বোন মরলো কেন, জবাব চাই’, ‘শিশু অধিকার বাস্তবায়ন চাই’ এবং ‘নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার চাই’ সংবলিত নানা প্ল্যাকার্ড হাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।