Published : 05 Apr 2026, 07:03 PM
কুড়িগ্রামে চলতি মৌসুমে তিস্তার চরাঞ্চলে মরিচসহ বিভিন্ন ফসলে বাম্পার ফলন হলেও সেই খুশিতে ভাটা দিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
কয়েকদিনের শিলা বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে জেলায় ৩ হাজার ৫৬৩ জন কৃষকের প্রায় ৮১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।
শিলা বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভুট্টা, শাকসবজি, মরিচ ও কালোজিরা। ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে ভালো দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ বছর জেলার ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ২৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, সূর্যমূখী, শাক-সবজি, মরিচ ও কালোজিরা চাষ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও শিলাঝড়ে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে ২৯৬ হেক্টর ফসল।
“প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের ফলে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন ফসলের উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ৩ হাজার ৫৬৩ জন কৃষকের মোট ৮১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
রাজারহাটের চর গতিয়াসামের চাষি ৭০ বছর বয়সী আজিজ বলেন, “প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ করে ৯ শতক জমিতে মরিচ চাষ করেছি। এখনো খরচ উঠাতে পারিনি। এর মধ্যে শিলা ও অতিবৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। মরিচের ডাল পচে হলুদ হয়ে গেছে।”

আজিজের স্ত্রী আনোয়ার বেগম বলেন, “দুই মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে আমাদের সংসার। ভাবছিলাম এবার মরিচ বিক্রি করে লাভের টাকায় অনেক কিছু করবো। দাম না উঠলে আমরা লোকসানে পড়বো।”
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ১ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ৮২০ হেক্টরের মরিচ উত্তোলন করে ভালো দাম পান কৃষকরা।
কিন্তু পরে হঠাৎ অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হওয়ায় অনেক গাছ নষ্ট হয়ে যায়। তখন যেসব কৃষক এখনো মরিচ তোলেননি, তারা বাধ্য হয়ে একসঙ্গে মরিচ তুলতে শুরু করেন। একসঙ্গে বেশি পরিমাণ মরিচ বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়ে যায়, ফলে দাম হঠাৎ কমে যায়।
তাই যারা দেরিতে মরিচ তুলেছেন, তারা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন নাজার সাথী বলেন, “তিস্তার চরাঞ্চলে মরিচ, পিঁয়াজ, বাদামসহ অন্যান্য ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।”
“তবে যে পরিমাণ ফলন হয়েছে আমরা কৃষিবিভাগ মনে করছি তাতে কৃষকরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে।”