১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এবারও নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা বিদ্যালয়ে শতভাগ জিপিএ-৫

এসএসসিতে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ৩৮২ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

নরসিংদী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 03:56 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

এসএসসিতে এবারও শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়েছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার ৩৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

সোমবার বেলা ১২টায় অনলাইনে এসএসসির ফল ঘোষণার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন।

প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা ও মিসেস নাছিমা মোল্লা। 

এর আগে ২০২২, ২০১৭, ২০১৫ ও ২০২৫ সালে শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে ‘দেশ সেরা’ ফল অর্জন করেছিল এই প্রতিষ্ঠানটি।

বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০০৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় প্রতিবছরই বোর্ডে সেরার স্থান দখল করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৭৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা ছয়জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

২০২৫ সালে ৩২০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে ২৯৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে ২৭৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২৭০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ২০২২ সালে ২৬৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।

এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মুশফিকুর হাসান সিয়াম বলেন, “নানা প্রতিকূলতার কারণে পড়ালেখার অনেক ব্যাঘাত ঘটেছিল। শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমে আমরা তা কাভার করতে পেরেছি। আজকে আমাদের দেশ সেরা ফলাফলে সব দুঃখ কষ্ট মুছে যাবে।”

বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যানের নির্দেশে শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সঠিক দিক-নির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, গাইড টিচারের মাধ্যমে নিয়মিত হোম ভিজিট, টিউটেরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষার কারণেই এ ভাল ফল অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী।

নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, “আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভাল ফলাফল করছে। এবার শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে আগের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।

“সারা দেশের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে আশা করছি আমরা দেশ সেরা অবস্থানে থাকব। মূলত নরসিংদীর মত মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। সবসময় চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানব সম্পদে পরিণত হউক। যাতে সমাজে সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমন হোসেন বলেন, “একটি বিদ্যালয়ের ভাল ফলাফলের মূল মন্ত্র হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়। আর আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে আবদুল কাদির মোল্লা। 

“স্যারের ইনোভেটিভ চিন্তা-চেতনা, সময়োপযোগী সঠিক দিক নির্দেশনায় আমাদের এই ফলাফল অব্যাহত আছে। এ ছাড়া আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এতো কঠোর পরিশ্রম করেন, যেখানে ভালো ফলাফল করতে বাধ্য। আমরা শুধু একাডেমিক ফলে নয়, কো-অ্যাক্টিভিটি কারিকুলামেও দেশ সেরা অর্জন করে আসছি।”

মানসম্মত শিক্ষা দানের অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৮ সালে নরসিংদী শহরের ভেলানগর এলাকায় থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা তার এবং স্ত্রী নাসিমা বেগমের নামে যৌথভাবে নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ১৭৪ শিক্ষক-শিক্ষিকার সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ জন।