শাকসু: ‘স্বতন্ত্রদের’ নিয়ে প্যানেল দিল ছাত্রদল, তবু পূর্ণাঙ্গ হয়নি
২২ সদস্যের প্যানেলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ১৪ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সম্পাদক ছাড়াই প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্রদল। প্যানেলে নারী প্রার্থী রয়েছেন মাত্র একজন।
সোমবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয় গোলচত্বরে এ প্যানেল ঘোষণা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
২২ সদস্যের প্যানেলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ১৪ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া বাকি আটজন ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীকে প্যানেলভুক্ত করা হয়েছে। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আগেই নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে তারা ছাত্রদলের প্যানেলে যুক্ত হন।
তারপরও ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারেনি ছাত্রদল। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে কোনো প্রার্থী নেই প্যানেলে। এ ছাড়া গোটা প্যানেলে একজন মাত্র নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঘোষিত প্যানেলে সহসভাপতি (ভিপি) (স্বতন্ত্র) পদে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক পদে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল হাসান (স্বতন্ত্র), সহক্রীড়া সম্পাদক পদে বাংলা বিভাগের জিল্লুর রহমান জিলন (স্বতন্ত্র), সাহিত্য ও বার্ষিকী সম্পাদক পদে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আসাদুল হক (স্বতন্ত্র), সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে অমিত মালাকার, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক পদে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক পদে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া রাব্বি (স্বতন্ত্র), ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক পদে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদা রিয়া (স্বতন্ত্র), স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে শাখা ছাত্রদলের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা আহমেদ লড়াই করবেন।
শিক্ষা গবেষণা ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক পদে শাখা ছাত্রদলের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মুনতাসির মামুন শুভ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে শাখা ছাত্রদলের অর্থ সম্পাদক তারেক রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক, পরিবহন সম্পাদক পদে শাখা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাসিমুল হুদা, ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিন সম্পাদক পদে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহানুর রহমান, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে শাখা ছাত্রদলের আইন সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ নির্বাচন করছেন।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সংসদের পাঁচ কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছাত্রদলের সাহিত্য সম্পাদক হৃদয় মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফফান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় আহসান ও মারুফ সাকলাইন এবং অন্ত গোপ (স্বতন্ত্র)।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. আবু হান্নান তালুকদার, শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান, সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নির্বাচন ও শাকসু নির্বাচন কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় ছাত্রদলের অবস্থানের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “যখন শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, ঠিক একই সময়ে জাতীয় নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম এক সঙ্গে চলমান থাকবে। সুতরাং এই দুটি বিষয় যখন এক সঙ্গে ঘটবে, তখনই আসলে বোঝা যাবে যে আদৌ বিঘ্ন ঘটছে কিনা।
“এটি ঠিক যে, একটি জাতীয় নির্বাচনের মাঝখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বড়ই বেমানান এবং এটি অতীত হয়েছে কিনা আমার আসলে জানা নেই। আমরা যদি মনে করি, জাতীয় নির্বাচন এই ছাত্র সংসদ নির্বাচন দ্বারা ব্যাহত হচ্ছে, তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।”
প্রত্যাশিত নারী প্রার্থী না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “এত বড় একটি প্যানেলে মাত্র একটি পদে নারী প্রার্থী (ছাত্রী বিষয়ক), বিষয়টি নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে আমাদের কনসার্নে থাকবে। এটিকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, এখানে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, প্রতিবন্ধকতা ছিল। আমরা অনেককে চেষ্টা করেছি আমাদের প্যানেলে, বিশেষ করে নারী প্রার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনের বিষয়ে। সেই প্রতিবন্ধকতাগুলোকে কাটিয়ে আমরা ভবিষ্যতে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বা এখানে (শাবিপ্রবিতে) আবার ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয় এগুলো কাটিয়ে উঠার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।”
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদকের ব্যাপারে নাছির বলেন, “যেহেতু এটি এখন পর্যন্ত ইনক্লুসিভ প্যানেলের মধ্যে রয়েছে, ফলে এই পদটিতে আমরা এখনো প্রার্থী ঘোষণা করতে পারিনি। কিন্তু অন্য একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা এখনো চলমান।
“আলোচনা সমাপ্তির পর্যায়ে পৌঁছালে আমরা হয়ত তাকেও আমাদের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারব। কিন্তু বিষয়টি এমন নই যে, উদ্দেশ্যপ্রণোনিতভাবে পদটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। টেকনিক্যাল কারণে এই পদটিতে আমরা এখনো প্রার্থী দিতে পারিনি। তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রদল না করলেও তাদের প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোস্তাকিম বিল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি প্রাথমিকভাবে চিন্তা করছিলাম যে, একটা স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে নির্বাচন করব। পরবর্তীতে এখানে ছাত্রদল আসলে চাইছিল। জগন্নাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখলাম, তারা (ছাত্রদল) একটা ইনক্লুসিভ প্যানেল করছে এবং সেখানে তাদের ভালো পসিবিলিটি। সেক্ষেত্রে আমার একটা প্যানেল ছিল, আমরা চাইছিলাম যে একটা ইনক্লুসিভনেসের মধ্যে গেলে ভালো। এখানে ছাত্রদলের একদম ক্লিন ফেস যারা তারা এখানে আসুক।
“আমরা আসি, বিভিন্ন কালচারাল অর্গানাইজেশন, স্পোর্টস সবকিছু মিলে একটা যদি প্যানেল করি। সেক্ষেত্রে আমাদের জন্য অনেক ভালো হবে। এসব চিন্তা-ভাবনা করে আমরা একটা ইনক্লুসিভ প্যানেল করি। এখানে এজিএস হিসেবে আমাদের সাজ্জাদ (যে ছাত্রদল করে না বা ছাত্রদলের মতাদর্শও লালন করে না) থাকার কথা ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে সে বসে যাওয়ার কারণে পরবর্তীতে জহিরকে (ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) সেটা দেওয়া হয়।”
এদিকে শাকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে ২৩টি পদে ৯৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু ও হল সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ছাত্রদলের ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’, ছাত্রশিবিরে ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, স্বতন্ত্রদের পক্ষ থেকে ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’সহ মোট তিনটি প্যানেল ঘোষণা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘স্বতন্ত্র সাস্টিয়ান জোট’ নামে একটি জোট (এটি কোনো প্যানেল নয়, এ জোটে একই পদে একাধিক প্রার্থীও যুক্ত হয়ে নির্বাচনি প্রচার করতে পারবেন) ঘোষণা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
