Published : 14 Apr 2026, 02:58 PM
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক দিনমজুরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার পর উল্টো হামলাকারীরাই থানায় মামলা করে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মো. ইউছুফ নামের ওই দিনমজুরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা প্রতিবেশী এক বিএনপি নেতার পরিবারের সদস্যদেরও মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরদি গ্রামের আমির উদ্দিন সওদাগর বাড়িতে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী-পুরুষরা একত্রিত হয়ে ঘটনার প্রতিকার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী ইউছুফের বাড়ি ওই এলাকায়।
বামনী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, “রেজনা ও ইউছুফদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে ২৩ মার্চ বিকালে ইউছুফকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
“রেজনার ভাই লক্ষ্মীপুর সদর থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর হোসেন নুরুসহ প্রায় ৩০ জন মিলে ইউছুফকে মারধর করেন। খবর পেয়ে আমি ও স্থানীয়রা ইউছুফকে উদ্ধার করতে গেলে হামলাকারীরা আমাদের ওপরও চড়াও হয়। একপর্যায়ে আমি সরে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পাই।”
কাশেমের ভাষ্য, পরবর্তীতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলাকারীরা তার বাড়িতে গিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করে।
পরে এ ঘটনায় ইউছুফের স্ত্রী বিলকিছ আক্তার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অন্যদিকে মারধরের অভিযোগ তুলে রেজনাও ১২ জনের নামে থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী মো. ইউছুফ বলেন, “আমার সঙ্গে রেজনাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। নূর আমাকে ডেকেছে, না যাওয়ায় সে লোকজন নিয়ে আমার ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছে।”
ইউছুফের স্ত্রী বিলকিছ আক্তার বলেন, “কোনো কারণ ছাড়াই আমার স্বামীকে নুরসহ তার লোকজন বেঁধে মারধর করেছে। তারা আমার ১১ মাস বয়সী শিশু সামিরকেও টেনে নিয়ে ফেলে দেয়।”
বিলকিসের আত্মীয় ফাতেমা আক্তার বলেন, “ইউছুফকে মারধরের সময় আমার ছেলে আশিক তাকে বাঁচাতে যায়। এজন্য মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
“নুরসহ পুলিশ এসে আমার ছেলেকে ধরতে যায়। এতে আমার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে বুকে ব্যথা পেয়েছে। আমি নুরের বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর হোসেন নুরু বলেন, “ইউছুফদের সঙ্গে আমার বোনদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ঘটনার দিন আমার ভাগিনার বৌভাত ছিল। সেখানে তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আমাদের মেহমানদের সামনে ছোট করার জন্য ও তাদের স্বর্ণালংকার চুরির উদ্দেশ্যে। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছি।”
তিনি বলেন, “এছাড়া ওইদিন কাশেম মেম্বারের নেতৃত্বে কিশোরা গ্যাংয়ের সদস্যরা এসে হামলা চালায়। এতে আমিসহ অনেকেই আহত হয়েছি।”
রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেডএম নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, “মারধরের বিষয় নিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া দুই পক্ষকে নিয়ে মিমাংসার কথা বলেছিলেন।
“কিন্তু এর মধ্যেই রেজনা বিএনপি নেতা আবুল কাশেমদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এটা ঠিক হয়নি; বিষয়টি আমরা দেখছি।”
পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নান বলেন, আমির উদ্দিন সওদাগর বাড়ির খোকন মিয়ার স্ত্রী রেজনা বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয় ২০ জনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
এতে বামনী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাশেমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।