১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীরে ক্ষত নিয়ে ফের সাফারি পার্কে ফিরল ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’

বনবিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 08:55 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

শর্ত ভঙ্গ করায় লালন-পালনকারীদের জিম্মায় দেওয়ার মাত্র ১২ দিনের মাথায় ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’ নামে দুই হাতিকে আবার গাজীপুর সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় তারা ভালো অবস্থায় গেলেও সাফারি পার্কে আনার সময় শরীরের আঘাতের চিহ্ন নিয়ে ফিরেছে। 

মঙ্গলবার সকালে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ‘নিহারকলি’ ও ‘সম্রাট’কে ট্রাকে করে আনা হয় বলে সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান। 

তিনি বলেন, হাতি দুটিকে আনার পর বনবিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বুধবার তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। পরে তাদের নির্ধারিত শেডে স্থানান্তর করা হবে। 

সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইনসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তবে শরীরে ক্ষতের বিষয়ে তারা এ মুহূর্তে মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরই এ বিষয়ে জানাবেন বলে বলেন সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান।  

চাঁদা তোলার অভিযোগে ২০২৪ সালে হাতি দুটিকে জব্দ করে সাফারি পার্কে পাঠিয়েছিল বনবিভাগ। দুই বছর পর মালিকপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে হাতি দুটিকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।    

তবে সোমবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজাকান্দি সংরক্ষিত বন থেকে মাদি হাতি ‘নিহারকলি’কে এবং রোববার জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা এলাকায় সংরক্ষিত বনের কাছে (শিলুয়া চা-বাগান সংলগ্ন) এলাকা থেকে ‘সম্রাট’কে উদ্ধার করা হয়। 

পরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু হাতি দুইটিকে নির্ধারিত শর্তে যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় বনবিভাগের হেফাজতে নেওয়ার নির্ধেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সাফারি পার্কে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

মৌলভীবাজার জুড়ি রেঞ্জের বন কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিক বলেন, “রোববার দুপুরে উপজেলার লাঠিটিলা এলাকায় সংরক্ষিত বনের কাছে পুরুষ হাতি ‘সম্রাট’কে পাওয়া যায়। সেখানে তাকে দিয়ে গাছ টানানোর কাজ করা হচ্ছিল। এ সময় তার মাথা ও শুড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে তাকে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে রেঞ্জ কার্যালয়ে রাখা হয় এবং তাকে গাজীপুরের সাফারি পার্কে পাঠানো হয়।” 

লাঠিটিলা বিটের কর্মকর্তা মো. সাজন বলেন, “হাতিকে দিয়ে কাজ করানোর সময় কথা না শুনলে লোহার ধারালো দণ্ড দিয়ে মাহুতরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকেন। ‘সম্রাটের’ শরীরেও এমন আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে।” 

সম্রাটের দেখভালকারী মাহুত সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গলে প্রবেশের সময় লেবু গাছের কাটার আঘাতে শরীরে কিছু ক্ষত হয়েছে। 

আরও পড়ুন:

২ বছর পর পার্ক থেকে বাড়ি ফিরল 'সম্রাটআর 'নিহারকলি