Published : 20 Aug 2026, 08:32 PM
মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগে প্রায় দুই বছর আগে ‘সম্রাট’ আর ‘নিহারকলি’ নামে দুই হাতিকে গাজীপুরের সাফারি পার্কে নিয়ে এসেছিল বনবিভাগ।
পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতন না করা এবং হাতি দিয়ে টাকা না তোলাসহ বেশ কয়েকটি শর্তে মালিকপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বলেন, “১২ অগাস্ট পার্ক থেকে ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’কে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বনবিভাগ।
‘সম্রাট’কে তার মালিক মনির মিয়া এবং ‘নিহারকলি’কে তার মালিক আব্দুল মজিদ বুঝে নিয়েছেন।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাহুত নজরুল ইসলামকে পিষে হত্যার পর ‘সম্রাট’কে পার্কে আনা হয়। একই বছরের ৩১ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে ‘নিহারকলি’কে উদ্ধার করা হয়।
‘সম্রাটে’র মালিক মনির মিয়া বলেন, হাতিটিকে এনে মৌলভীবাজার এলাকায় রাখা হয়েছে। সেখানে তার দায়িত্বে হাতিটিকে লালন-পালন করা হবে।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, হাতির মালিকরা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বনবিভাগের কাছে আবেদন করেছিল। তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে হাতি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“পাশাপাশি মালিকপক্ষের আর্থিক সক্ষমতাও যাচাই করে দেখা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে জিম্মানামা ও মুচলেকা রাখা হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় হাতি দুটি মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
বনবিভাগের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, মালিকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। হাতি দুটি যাতে নির্যাতনের শিকার না হয়, কষ্ট না পায় এবং চাঁদা তোলার কাজে ব্যবহার না করা হয়- এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে জিম্মানামা নিয়ে হাতি দুটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তার দাবি, সাফারি পার্কে দুটি হাতির মৃত্যুর কারণে নয়, মালিকদের আগের আবেদনের পর নিয়ম মেনেই হাতি দুটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
গত ৬ ও ৭ আগস্ট পার্কের হাতিশালায় দুটি হাতির মৃত্যু হয়।
চলতি বছরের ২৪ মে পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সী ‘রাজু বাহাদুরের’ উপর হামলা করে চার বছর বয়সি ‘জয়িতা’। আক্রমণে ‘রাজু বাহাদুরের’ একটি পা ভেঙে যায়। হাতির চিকিৎসায় গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড; পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকে আনা হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
এর বাইরে শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়েছিল। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ৭ অগাস্ট হাতিটির মৃত্যু হয়।
অপরদিকে ৬ অগাস্ট ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের আরেকটি হাতির মৃত্যু হয়েছে।