Published : 09 Sep 2026, 03:49 PM
রাঙামাটিতে হারানো ৪২টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্নভাবে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধার করে মালিককে ফেরত দিয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন।
বুধবার সকালে রাঙামাটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম।
উদ্ধার করা অর্থের মধ্যে বিকাশে ভুলবশত চলে যাওয়া ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ২৭ হাজার টাকা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে নমিতা চাকমা বলেন, “ছয় মাস হলো আমার মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায়। এই ফোনের মাধ্যমে বাইরে থাকা ছেলে মেয়েদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতাম। সেই যোগাযোগটাও অনেক দিন হলো বন্ধ রয়েছে।
“থানায় জিডি করে অনেকদিন অপেক্ষা করেছি কোনো সুরহা হয়নি। পরে আমার এক আত্মীয়র কাছে জানতে পারি এপিবিএন নাকি হারানো ফোন উদ্ধারে দ্রুত কাজ করে দেয়। একমাস আগে আমার জিডির কপি এপিবিএনকে দিলে তারা ফোনটি উদ্ধার করেন।”
ছয় মাস পর ফোন ফেরত পেয়ে নমিতা বলেন, “আমি তাদের এই কার্যক্রমে খুবই আনন্দিত। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই আমার। তাদের এমন মহতি কাজের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”
তিন বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে ব্যবসায়ী ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “আমি তো ফোন ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এপিবিএন আমাকে সেই নিরাশা থেকে মুক্ত করেছে। তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তিন বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ফোন ফিরিয়ে দিয়েছে।
“এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। তাদের এমন মহতি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেবা দিয়ে যাবেন এই কামনা করি।”
পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারে এপিবিএন ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
পুলিশের সাফল্য শুধু অপরাধী গ্রেপ্তারে নয়; একজন অসহায় মানুষের হারানো সম্পদ তার হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যেও পুলিশের মানবিক দায়িত্ব ও সেবার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে বলে মনে করেন তিনি।
সেইসঙ্গে জনগণকে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকা এবং অনলাইন প্রতারণার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এপিবিএনের এই কর্মকর্তা।
এ সময় ১৮ এপিবিএনের সহঅধিনায়ক এনায়েত করিম, অ্যাডজুটেন্ট মশিয়ার রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার ইত্তেখায়রুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।