Published : 09 Sep 2026, 07:26 PM
নোয়াখালী সদর উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন বলে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন এমরান (৪৫) আইয়ুবপুর গ্রামের প্রয়াত গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় ক্বারি বেলায়েত হুসাইন (রহ.) মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক।
মামলার আসামি মোবারক হোসেনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পিটুনির পর পুলিশে দেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর স্বজন ও এলাকাবাসী। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একই হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বিকাল ৩টার দিকে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য তাকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়।
সেখানে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফসানা রুমি তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই ছাত্রী গত তিন বছর ধরে ক্লাস শেষে মাদ্রাসায় কোচিং করত। কোচিং শেষে বিকালে মোবারক হোসেনের বাড়িতে প্রাইভেট পড়ত।
গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মোবারক হোসেন ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় যেতে বলেন। এ সময় সে মাদ্রাসায় যাবে না বলে কান্নাকাটি শুরু করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি তার মাকে জানায়, গত ২৩ অগাস্ট দুপুরে মাদ্রাসায় কোচিং শেষে প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন অন্য শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে তাকে অফিসকক্ষে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে বলা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এর আগে পাঁচ মাস ধরে মোবারক হোসেন একাধিকবার ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।
এরপর সোমবার পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষার পর মেয়েটি কয়েক মাস ধরে ধর্ষণের শিকার হয়ে আসছে বলে জানান বলে চিকিৎসকরা জানান।
সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। পরে তারা মোবারক হোসেনকে ডেকে মেয়েটির বাড়ির সামনে নিয়ে আসেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে পিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে মাদ্রাসাশিক্ষক মোবারক হোসেনের দাবি, ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
সুধারাম থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষক মোবারক হোসেনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।