Published : 17 Aug 2025, 11:47 AM
পদ্মার প্রবল স্রোতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার লঞ্চ ঘাট বিলীন হয়ে গেছে। ফেরি ঘাটের একটি অংশও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।
এতে ফেরি ও লঞ্চ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। ঘাটে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকছে যাত্রী ও যানবাহন।
গত বুধবার পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার কিছু অংশ নদীতে ভেঙে যায়। দুই দিন বন্ধ থাকার পর ঘাট এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে শুক্রবার সংস্কার করা হয়। এরপর শনিবার থেকে এ ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হয়।
এছাড়া ৪ নম্বর ফেরিঘাটও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানেও ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ।
পদ্মার ভাঙনে পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটও বিলীন হয়ে গেছে। ১ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে যাত্রীরা লঞ্চে উঠছেন। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় পারাপারে সময় বেশি লাগছে।
ঢাকা থেকে বরিশালগমী সাকুরা পরিবহনের বাস চালক হাবু বলেন, “এক ঘণ্টা ধরে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছি। কখন পার হবো, কে জানে?”
যশোরগামী একে ট্রাভেলস বাসের চালক রাজু বলেন, “রিজার্ভ ট্রিপে যশোর যাচ্ছি। কিন্তু ঘাটে এসে ফেরি না পেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছি। তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।”
রাজবাড়ীগামী ট্রাক চালক আবুল বলছিলেন, “স্রোতের কারণে ট্রাক বোঝাই ফেরি পারাপারে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।”

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম (সাময়িক) আব্দুস সালাম বলেন, পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে ৫ নম্বর ঘাট ভেঙে যাওয়ায় বুধবার রাত থেকে ফেরিতে লোড-আনলোড বন্ধ হয়ে যায়। বালু বোঝাই ব্যাগ ফেলে সংস্কারের পর শনিবার থেকে এ ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হয়।
“বর্তমানে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরি পারাপার হচ্ছে। ৪ নম্বর ঘাটও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।”
বর্তমানে ১১টি ফেরি চলাচল করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তীব্র স্রোতের কারণে পারাপারে দ্বিগুণ সময় লাগছে।”
পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে লঞ্চ চলাচলে সময়ও বেশি লাগছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

পাটুরিয়া ঘাটে কথা হয় ‘অনন্যা রিভার’ লঞ্চের চালক (মাস্টার) নাঈমের সঙ্গে। তিনি বলেন, “ভাঙনের কারণে লঞ্চ ভিড়ানোর জায়গা কমে গেছে। আগের তুলনায় যাতায়াতে ঝুঁকি বেড়েছে।”
“আমরা ১ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে লঞ্চে যাত্রী তুলছি”
আনিকা লঞ্চের চালক মাসুদ রানা বলেন, “নদীতে স্রোত বেশি থাকায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে পারাপারে। আগে ২৫ মিনিটে দৌলতদিয়া পাড়ে গিয়েছি। এখন সময় লাগছে ৫০-৬০ মিনিট।”