Published : 22 Dec 2024, 07:15 PM
মাদারীপুর সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নে সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের নতুন পাকা ঘর পাচ্ছে ৩২০টি পরিবার। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
আসছে বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে নতুন ঘরগুলো উপকারভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
সম্প্রতি সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্প-গুচ্ছগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরনো ঘরের জায়গায় সরকারি অর্থায়নে নতুন পাকা ঘর উঠেছে।
আর কদিন পরই নতুন ঘরে বসবাসের সুযোগ পাবেন ভেবে আনন্দে আত্মহারা প্রকল্পের বাসিন্দা দুই সন্তানের জননী জুলেখা বেগম।
স্বামীহারা এ নারী বলেন, তার ছেলেটি প্রতিবন্ধী। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে আশ্রয়নের একটি ভাঙাচোরা ঘরে ২২ বছর ধরে বসবাস করছিলেন।
জুলেখা বলেন, “নতুন পাক্কা ঘর পাইলে একটু শান্তিতে ঘুমাইতে পারব। আল্লাহ যতদিন বাঁচায়া রাখবে, ততদিন পাক্কা ঘরেই থাকতে চাই।”
প্রায় ২২ বছর আগে সরকার আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে বসবাসের সুযোগ দেয় এখানকার ভূমিহীন পরিবারের মাঝে।
তবে পুরোনো ঘরগুলো ভেঙে যাওয়ায় বসবাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল ওইসব পরিবারের সদস্যদের।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে সেইসব ঘর সরিয়ে খালি করা জায়গায় নতুন পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে সরকারি অর্থায়নে।
নতুন ঘর নির্মাণের সময়টুকু বাসিন্দারা প্রকল্প এলাকার আশপাশে অস্থায়ী জীর্ণ কুটির তৈরি করে কোনো রকমে দিনাতিপাত করে আসছেন।
শুধু জুলেখাই নন, সদর উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্পের (গুচ্ছগ্রাম) ক্ষীতিশ মণ্ডল, জাহানারা বেগম, এসকেন হাওলাদারসহ অধিকাংশ বাসিন্দার একই অবস্থা।
তবে দ্রুত সময়ে তৈরি হওয়া সারিবদ্ধ পাকা ঘরগুলোয় আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা শান্তিতে বসবাসের প্রহর গুনছেন।
ক্ষীতিশ মণ্ডল বললেন, “প্রায় ২২ বছর আগে সরকার আমাকে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে বসবাসের সুযোগ দেয়। তবে পুরাতন ঘরগুলো ভেঙে যাওয়ায় বসবাস করা যাচ্ছিল না। পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতাম। এখন সরকার নতুন পাকা ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে। নতুন ঘরে পেলে শান্তিতে ঘুমাতে পাবর। আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।”
সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।
সেখানেও নির্মাণ করা হচ্ছে ৮০টির মত নতুন পাকা ঘর।
মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেছেন, “আগের টিনের ঘরগুলোর একটিতে ১০টি পরিবার থাকত খুব কষ্ট করে। এখন প্রতিটি পরিবারের জন্য আলাদা একটি ঘর তৈরি করা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “নতুন করে নির্মাণ করা ৩২০টি ঘরের প্রতিটিতে দুটি কক্ষ, একটি রান্না ঘর, একটি বারান্দা ও একটি শৌচাগার আছে। প্রতি ১০ ঘর পরিবারের জন্য একটি করে টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।
“প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে আগামী জানুয়ারির শেষের দিকে উপকারভোগীদের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে।”