Published : 09 Jun 2026, 12:15 AM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বিজিবির জব্দ করা ভারতীয় বাসমতি চাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার রাতে কসবা সদর উপজেলার সুলতানপুর (৬০ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধীন সালদানদী বিওপি ক্যাম্পের সুবেদার মো. মাসুদ মামলাটি করেছেন বলে জানিয়েছেন কসবা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল আমিন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন (৫০), ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি স্বপন মিয়া (৪২) এবং ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হুমায়ুন মিয়া (৪২)।
এ ছাড়া নয়নপুর, বায়েক, কোল্লাপাথর ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে কসবা সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদকবিরোধী টহলে ছিল বিজিবির একটি দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, নয়নপুর এলাকায় অবৈধভাবে ভারতীয় বাসমতি চাল এনে একটি ট্রাকে রাখা হয়েছে।
পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সালদানদী ও শশীদল বিওপির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নয়নপুর বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে চালবোঝাই ট্রাকটি জব্দ করেন।
সেসময় আসামিদের উসকানিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ১৫-২০ জন ব্যক্তি বিজিবি সদস্যদের ঘেরাও করে সরকারি কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা বিজিবির সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
এতে ল্যান্সনায়েক দিদার হোসাইনসহ কয়েকজন সদস্য আহত হন। হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে এবং জব্দ করা মালামাল ও সরকারি সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
মামলার আসামি বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এই ব্যবসার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সম্পৃক্ততা প্রমাণ হলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে।”
কসবা থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল আমিন বলেন, “বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”