Published : 30 Aug 2024, 07:30 PM
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় লেবু মিয়া নামের এক ব্যক্তি তার লোকজন নিয়ে ‘রাধাগবিন্দ লোকনাথ নাটমন্দিরে’ ভাঙচুর চালায় বলে ওই এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার আহাম্মেদও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনার প্রতিবাদে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। ওই ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
আটকরা হলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকার ইন্তাজ মিয়ার ছেলে মো. লেবু মিয়া (৪৭) এবং নাটোরের আব্দুলপুর গ্রামের ফরিদ হোসেনের ছেলে মো. মুরাদ হোসেন (২৫)।
সফিপুর সার্বজনীন শ্মশানঘাট ও রাধাগবিন্দ লোকনাথ নাট মন্দিরের যুগ্ম আহ্বায়ক হরিপদ সরকার বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে এখানে মন্দির রয়েছে। একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে মন্দিরের জমি দখল করার জন্য পাঁয়তারা চলছিল। এর আগেও দখলের চেষ্টা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় লেবু মিয়া নিজেকে ‘বিএনপি নেতা দাবি করে’ লোকজন নিয়ে এসে মন্দিরটি ভাঙচুর করে।

সফিপুর বাজার এলাকার বাসিন্দারা বলেছেন, স্থানীয় ঠিকাদার লেবু মিয়া ওরফে লেবু কন্টাকদার নামের ওই ব্যক্তি সফিপুর সার্বজনিন শ্মশানঘাট ও রাধাগবিন্দ লোকনাথ নাট মন্দিরের জমি ক্রয় করে দখল করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মন্দির থাকায় জমি দখল করতে পারছিলেন না। এর জেরে শুক্রবার সকালে ৫০ থেকে ৬০ জন সন্ত্রাসী ভাড়া করে ওই জমি দখল করতে যান তিনি। এ সময় হামলা চালিয়ে নাট মন্দির ভাঙচুর করে।
খবর পেয়ে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বেরিয়ে এসে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা চালায়। এতে ১০-১২ জন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময়ে মুরাদ হোসেন নামের এক জনকে আটক করা হয়।
নাট মন্দিরের আহ্বায়ক প্রকৌশলী কৌশিক অধিকারী বলেন, “লেবু মিয়া নামের এক ব্যক্তি ৫০ থেকে ৬০ জন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের নাট মন্দির ভাঙচুর করে। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে।”
এ প্রসঙ্গে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার আহাম্মেদ জানান, মন্দিরে হামলার ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইতোমধ্যে পুলিশ দুইজনকে আটকও করেছে।
তিনি বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটা আইনগত ভাবে সমাধান করা যেতো। মন্দিরে হামলা না করলেও পারতো। উপজেলা প্রশাসন ও কালিয়াকৈর পৌরসভা যৌথভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেবে।”
এ বিষয়ে কথা বলতে লেবু মিয়ার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ বলেন, মন্দির কমপ্লেক্সের মধ্যে একটি টিনসেড ঘরে ভাঙচুর করা হয়েছে। জমির বিরোধের জেরে এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।