Published : 10 Sep 2026, 04:45 PM
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদী সংরক্ষণ বাঁধের ঢালে লাউচাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। ১০-১২ জন যুবকের এমন উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্য চাষিরাও বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাঙামাটি গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করা হয়েছে। তারা আশা করছেন আরও অন্তত ২ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন।
সম্প্রতি ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ধরলা নদী তীরবর্তী রাঙামাটি ও খোঁচাবাড়ি গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বাঁধ সবুজ চাদরে ঢাকা পড়েছে। বাঁধের দু’পাশের ঢালে দেড় থেকে দু’কিলোমিটার এলাকায় লতানো লাউয়ের ডগা মাথা উচু করে বাতাসে দোল খাচ্ছে। বাঁশের জাংলার নীচে ঝুলছে ছোট-বড় লাউ।
এছাড়া কিছু কিছু স্থানে সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য দু’পাশের লাউয়ের জাংলার মাঝখানে বাঁধের ওপর গেট তৈরি করা হয়েছে। দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মরিচাবাতি। এমন উদ্যোগে বাঁধটি এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
বিকাল হলেই রঙিন আলোর ঝলকানি আশপাশের গ্রামের মানুষকে এখানে টেনে আনে। সেখানে টংয়ের মধ্যে বসে সময় কাটে তাদের।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, চলতি বছরে জেলায় শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি। এরমধ্যে চাষাবাদ শুরু হয়েছে ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। আগাম শীতকালীন সবজীর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫০ হেক্টর। এরমধ্যে আগাম লাউয়ের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৩৬০ হেক্টর।
রাঙামাটি গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, জুলাই থেকে অক্টোবর মাসে ওয়াপদা বাঁধের ঢালে কোনো মেরামত কাজ থাকে না। সেই বিবেচনায় তারা বাঁধের ঢালে লাউয়ের চারা লাগিয়েছেন।
তিনি বলেন, তার কয়েকজন চাষি মিলে দুপাশে ৩০০টি গর্ত করে লাউ চারা রোপন করেছেন। এতে গর্ত খোড়া, বাঁশ দিয়ে খুঁটি ও জাংলা করা, দড়ি, গোবর সার, সেচ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
এর মধ্যেই লাউ বিক্রি শুরু করেছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আশার খবর হচ্ছে, লাউ বিক্রি করতে বাজারে যেতে হয় না। ফুলবাড়ীর পাশাপাশি লালমনিরহাট, বড়ভিটা, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও কুড়িগ্রাম সদরের পাইকাররা এসে লাউ কিনে নিয়ে যান।”
খোঁচাবাড়ির কৃষক আব্বাস আলী বলে, এসময় বন্যায় চারপাশে পানি থাকে ফলে নীচু জমিতে সবজি চাষ করা ঝুঁকি হয়। বাঁধের ঢাল উঁচু হওয়ায় ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এছাড়াও জমির জন্য আলাদা খরচ করতে হচ্ছে না। এছাড়াও নদী থাকায় সহজে সেচের পানি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সবদিক থেকে খরচ কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশি হচ্ছে।
কৃষক মন্তাজ আলী বলেন, জেলায় ওয়াপদা বাঁধের বেশিরভাগ ঢালগুলো খালি পড়ে থাকে। গোচারণ ভূমি হিসাবে ব্যবহৃত হয় অথবা জঙ্গলে ভরে থাকে। এই ঢাল ব্যবহার করতে পারলে মানুষ নিজেরা সবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবে। সংসারে ফিরবে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা।
এই এলাকার রাহেনা বেগম বলেন, অন্যদের দেখাদেখি তারা কয়েকজন স্বল্পাকারে বাঁধের ঢালে করলা, অড়হর কালাই, মিষ্টি কুমড়া ও পশুখাদ্যের জন্য ঘাস লাগিয়েছেন।
তবে কৃষকদের অভিযোগ সার সংকট ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তারা চান সঠিক তদারকির মাধ্যমে সরকার মূল্য বৃদ্ধির চাকা টেনে ধরবে।
বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নদী সংরক্ষণ বাঁধের ঢালে ভূমিহীন চাষীরা লাউচাষ করেছেন। এই মূহূর্তে যেহেতু বাঁধের কাজ হয় না। এই সময়টাকে তারা কাজে লাগিয়েছেন।
কৃষকদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “এতে চাষিরা নিজেদের তাদের পুষ্টিচাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হতে পারবেন।”