Published : 30 Jul 2026, 05:01 PM
ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংস্কার কাজ পরিপূর্ণভাবে করার তাগিদ দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেছেন, “সংবিধানের আঘাতের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন হবে। আমরা একটা অভাগা জাতি, যে অবস্থায় আছি। এই শিকলটা আমাদের ভেঙে দিতে হবে এবং এই শিকল ভাঙ্গার জায়গাটাতে প্রথমেই সংবিধানে আঘাত করতে হবে।
“বাংলাদেশের সংস্কারটা কমপ্লিট করা প্রয়োজন। যদি এটা না হয় আপনার, আমার, সন্তানের, বাংলাদেশের কারো ভবিষ্যৎ নাই। কেন নাই? এটা আপনারা একটু গভীরভাবে পড়াশোনা করবেন, কেন সংস্কারটা প্রয়োজন।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে মিনি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় এনসিপি নেতা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ। দয়া করে, জুলাইয়ে আমাদের ১৪০০ ভাই চলে গিয়েছে, এই বিচারটা বাংলাদেশে কমপ্লিট করা আমাদের প্রয়োজন। সে জায়গা সাস্ট ভূমিকা পালন করবে।”
সভায় এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ঠিক করবেন কোন সমাবেশে যাবেন, কোন সমাবেশে যাবেন না। কার পক্ষে ভোট দিবেন, কার পক্ষে দিবেন না। কিন্তু কথা বলতে গেলে, আপনারা এসে দমন করবেন, আক্রমণ করবেন এবং পুলিশ এসে বাধা দিবে, প্রশাসন এসে বাধা দিবে নিরাপত্তার নামে- এটা বাংলাদেশে আর হতে দেওয়া যাবে না।
“এটা বিগত আমলের কৌশল এবং আপনারা পারলে নতুন কৌশল হাজির করেন। শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না। কারণ শেখ হাসিনাকে কপি করলে, শেখ হাসিনাকে কিভাবে সরানো হয়েছে এইটা এখানকার বাচ্চা-বাচ্চা পোলাপানরাও জানে। ফলে যদি নতুন কৌশল আনতে পারেন সেটা আপনাদের জন্য সুবিধার হবে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা নতুন দিনের রাজনীতি নিয়ে হাজির হয়েছি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, ছিল, থাকবে। কিন্তু আমরা সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেই সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাব। যেকোনো গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে, দাবি আদায়ের পক্ষে এনসিপি সবসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকবে।”
অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।