গোপালগঞ্জে ঋণ ও মাদকের টাকার জন্যই হত্যা-ডাকাতি: পুলিশ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ১১ মার্চ দুপুরে এক দন্ত চিকিৎসকের ছেলেকে হত্যা ও বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় দিন-দুপুরে দন্ত চিকিৎসকের ছেলেকে হত্যা ও বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি- ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল পাঁচজন; যারা মাদক ও ঋণ পরিশোধের টাকা জোগাড় করতেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
শনিবার বিকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে- তারা কেউ মাদকাসক্ত আবার কেউ ঋণগ্রস্ত। তারা জেনে-বুঝেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের লাখিরপাড় গ্রামের দন্তচিকিৎসক পল মজুমদার ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করে ঘরে রেখেছিলেন। এ খবর গ্রেফতারকৃতরা কোনো না কোনোভাবে জেনে যায়।
পরে ওই বাড়িতে ৮ ও ১০ মার্চ ডাকাতির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় তারা ।
“পরে ১১ মার্চ দুপুরে ডাকাতিতে সক্ষম হয়। সে সময় ঘটনা দেখে ফেলায় পল মজুমদারদের ছেলে পিয়াস মজুমদারকে (২২) হাত পা বেঁধে হত্যা করে রেখে যায় তারা।”
সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়- গ্রেপ্তাররা সবাই কোটালীপাড়া উপজেলার। তারা হলেন, বংকুরা গ্রামের সোহরাব খানের ছেলে মোর্শেদ আলম ওরফে কামাল, চৌরখূলী গ্রামের আতা শেখের ছেলে সামিউল শেখ এবং বংকুরা গ্রামের শওকত আলী ভুঁইয়া।
তাদের কাছ থেকে নগদ ২৪ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, পল মজুমদার দন্ত চিকিৎসক ও তার স্ত্রী অনিতা বৈদ্য গোপালগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের নার্স। পিয়াস মজুমদার তাদের একমাত্র ছেলে।
ঘটনার দিন গত ১১ মার্চ পল মজুমদার ও অনিতা বৈদ্য তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যান। এ সময় পিয়াস বাড়িতে ছিল।
এ সুযোগে দুপুরের দিকে ৫ আসামি প্রথমে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা ঘরে টাকা-মালামাল লুট শুরু করলে পিয়াস তা দেখে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ডাকাতরা প্রথমে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। লোক জানাজানি হয়ে যাবে এ আশঙ্কায় তারা তাকে মুখে গামছা ঢুকিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে লাশ খাটের ওপর ফেলে রাখে।
পরে ঘর থেকে ১ লক্ষ ৯ হাজার টাকা ও একটি রুপার চেইন লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ওইদিনই পল মজুমদার বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় অজ্ঞাত আসামি করে হত্যাসহ একটি ডাকাতি মামলা করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পরই পুলিশের একটি টিম হত্যা-ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটনে অভিযানে নামে। পরদিন (বুধবার) সন্ধ্যায় উপজেলার কুশলা বাজারের খান মার্কেট থেকে মোর্শেদ আলম ওরফে কামালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ ঘটনায় জড়িত থাকার স্বীকার করে।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সামিউল শেখকে বাগেরহাটের কচুয়া থানার কামারগাতী গ্রাম থেকে এবং শনিবার শওকত আলী ভুঁইয়াকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আলোচিত এই ডাকাতি ও হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদের গ্রেপ্তারে এবং আরও কেউ জড়িত আছে কিনা অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান জেলা পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
