Published : 07 Sep 2025, 09:20 PM
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও একটি মামলা করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান বলেন, ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও এক হাজার জনকে আসামি করে রোববার দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ কক্সবাজার নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আবদুল ওয়াকিল মামলাটি করেন।
মামলার আসামির মধ্যে আছেন- জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মনির উদ্দিন, সিআইপি আতিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাশেদুল হক, তার ছোট ভাই কক্সবাজার জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিনুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমান, মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আইনজীবী আবদুল খালেক, ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও পর্যটকবাহী জাহাজ ব্যবসায়ী হোসাইন ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হুমাইরা বেগম।
এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা গত বছরের ৫ অগাস্টের পর থেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। কিন্তু নদী তীর এলাকায় তাদের স্থাপনা রয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, শুক্রবার অভিযানের পঞ্চম দিনে সকাল ৯টার কিছু পর থেকে শহরের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো বাসিন্দা শহরের গুমগাছতলায় বিমানবন্দর সড়কের অভিমুখে জড়ো হতে থাকেন।
সকাল ১০টার দিকে ভাঙচুর করা হয় উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সেনাবাহিনী, পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকতাদের ঘিরে রাখে বিক্ষোভকারীরা।
এক পর্যায়ে সকাল ১১টায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা না করে পিছু হটতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
এর আগে ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর নদীর কস্তুরাঘাট ও পেশকারপাড়ায় যৌথ বাহিনীর উচ্ছেদ অভিযানে বাধা ও হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য এবং বিআইডব্লিউটিএর একজন সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ এবং পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। এ দুটি মামলায় ৬৫০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় ওসি ইলিয়াস খান বলেন, আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে কক্সবাজার শহরে শুরু হয় বাঁকখালী নদীতে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনার উচ্ছেদ অভিযান।