১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এক মাস ধরে বন্ধ ‘ইপিআই’ কার্যক্রম, টিকা পাচ্ছে না লালমনিরহাটের শিশুরা

“এক মাস ধরে টিকাদান কেন্দ্র বন্ধ থাকায় আমার নবজাতক সন্তানকে নির্ধারিত টিকা নিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন।”

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Dec 2025, 02:26 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:25 PM

উচ্চ বেতন স্কেলের দাবিতে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতির কারণে লালমনিরহাটে গত এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ইপিআই (বর্ধিত টিকাদান কর্মসূচি)।

এতে নবজাতকসহ অসংখ্য শিশু মারাত্মক দশটি রোগ প্রতিরোধী টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতির কারণে পুরো জেলায় এক মাস ধরে ইপিআই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।”

লালমনিরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পলিও, যক্ষা, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, হাম, ডিপথেরিয়া, রুবেলা ও হেপাটাইটিসসহ ১০টি রোগ প্রতিরোধে জন্মের পর থেকে ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে মোট ১১টি টিকা দেওয়া হয়।

সরকার বিনামূল্যে এসব টিকা সরবরাহ করলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কর্মবিরতির কারণে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

ইপিআই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে ২৪টি করে টিকাদান কেন্দ্র পরিচালিত হয়। প্রতি মাসে একটি উপজেলায় গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ শিশু এসব কেন্দ্র থেকে টিকা পেয়ে থাকে।

শিশু জন্মের পরপরই টিকা কার্ড দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ে টিকা না নিলে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রাপ্তিতেও জটিলতা তৈরি হয় বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।

আদিতমারী উপজেলার বাসিন্দা জামশেদ আলম বলেন, “এক মাস ধরে টিকাদান কেন্দ্র বন্ধ থাকায় আমার নবজাতক সন্তানকে নির্ধারিত টিকা নিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের লালমনিরহাট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি সোহেল মাসুদ বলেন, “একই যোগ্যতার অন্যান্য দপ্তরের কর্মীরা উচ্চতর গ্রেডে বেতন পেলেও আমরা এখনো ১৮তম গ্রেডে আছি।

“আমাদের দাবির প্রতি সরকার গুরুত্ব না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে কর্মবিরতিতে যেতে হয়েছে।”

সংগঠনটির সহসভাপতি হালিমা আক্তার বলেন, “রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেও আমরা ন্যায্য মূল্যায়ন পাচ্ছি না। সরকার দ্রুত দাবি মেনে নিলে আমরা কাজে ফিরতে প্রস্তুত।”

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন আব্দুল হাকিম বলছেন, “ইপিআই কর্মসূচির কর্মীরা উচ্চতর গ্রেডের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে শিশুস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।”