Published : 30 Nov 2025, 04:22 PM
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ডিলারের কাছে সার না পেয়ে লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা।
রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার অডিটরিয়াম চত্বরের সামনে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে কৃষকেরা এ বিক্ষোভ করেন বলে জানিয়েছেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, ভুট্টা মৌসুমের শুরুতেই বাজারে নন ইউরিয়া সার সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন ধরে সার না পেয়ে ভুট্টা চাষাবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
তারা জানান, সিংগিমারী ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য সারের ডিলার ‘মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর’ বিক্রয়কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ রোববার সার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল।
কিন্তু অল্প কয়েকজন কৃষককে সার দেওয়ার পর হঠাৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সার না পাওয়া কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
সার না পাওয়া কৃষক কসমত আলী বলেন, “এখনই ভুট্টা ক্ষেতে সার দেওয়ার সময়। আজ–কালকের মধ্যে সার না পেলে ভুট্টা রোপণই করা যাবে না।”
কৃষক আব্দুর রহিম ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করেও তারা জমির প্রয়োজনীয় সার পাননি।
ডিলারের বিরুদ্ধে সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ করে তারা বলেন, দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক বর্মনের সহযোগিতায় ডিলার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করেছেন।
তাই সারের ডিলার ও ওই কৃষি কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন কৃষকরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
ইউএনও শামীম মিঞা বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ায় বিক্রয়কেন্দ্রের মজুদ ও বিক্রির হিসাব নেওয়া হচ্ছে; কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে মেসার্স মোর্শেদ সার ঘরের মালিক মঞ্জুর মোর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আর কয়েকবার কল দিলেও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক বর্মনের মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাইখুল আরেফিন দাবি করেন, জেলায় কোনো সার সংকট নেই। মাসের শেষ দিকে বরাদ্দ কম থাকায় সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে, তবে নতুন বরাদ্দ আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।