১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের পর রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2026, 11:02 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:52 PM

ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান।

তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন খানকে। সদস্যসচিব করা হয়েছে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা বেগমকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সঞ্জীবন গাইন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার জ্যোতিময় জ্যোতি এবং নুপুর পাল (ডিআরএস)।

সিভিল সার্জন বলেন, তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৃত নারীর নাম কনিকা মণ্ডল। তিনি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। তার দুই ছেলে ও দেড় মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রসববেদনা নিয়ে ২৯ জুলাই কনিকা ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়কের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত অস্ত্রোপচার করে তার কন্যাসন্তান প্রসব করান।

পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পর দিন কনিকার পেট ফুলে যায়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসককে জানানো হলেও তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরে কনিকাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই সার্জারি বিশেষজ্ঞ আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা করা হলে তার পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করার বিষয়টি ধরা পড়ে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এরপর দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়। সেখানে ৪২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাত সোয়া ২টার দিকে কনিকার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে শুক্রবার সকালে কনিকার বাড়িতে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেন।

মন্ত্রী বলেন, তদন্তে কারও দায় বা চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:

'ভুল চিকিৎসায়মৃত্যুরাজবাড়ীতে কনিকার বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী,