১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ভুল চিকিৎসায়’ মৃত্যু: রাজবাড়ীতে কনিকার বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ব্যবস্থার আশ্বাস

ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2026, 02:25 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

ফরিদপুরের বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর কনিকা মণ্ডল নামের এক নারীর পেটে গজ রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কনিকার বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

ঘটনার তদন্তে বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। 

মৃত কনিকা মণ্ডল উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আসার খবরে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও কনিকার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন। প্রচুর লোকজনের ভিড় থাকলেও ওই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। 

ঘরের বারান্দায় কনিকার দেড় মাস বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে কান্না করছেন তার বোন দীপিকা বিশ্বাস দীপা। পাশে রয়েছে কনিকার আরও দুই সন্তান। প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। 

নিহত কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল বলেন, “গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কনিকার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেন চিকিৎসক লক্ষ্মী রানি দত্ত। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ১৯ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মারা যায়।”

ছেলে পার্থ মণ্ডল বলেন, “আমার মায়ের মৃত‌্যু হয়েছে । সেটার ক্ষতি তো পূরণ করা সম্ভব নয়। আর যেন কোনো মা মারা না যায় সেজন‌্য ওই হাসপাতাল বন্ধসহ চিকিৎসকের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” 

এদিকে কনিকার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। 

স্থানীয় সোলেমান বিশ্বাস বলেন, “ডাক্তাররা তো এখন কসাই। ওদের চিন্তা থাকে পেট কাটতে পারলেই টাকা আর টাকা। কনিকার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এজন‌্য ওই চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করছি। সেই সঙ্গে সারা দেশে এরকম যেন আর না ঘটে, সে জন‌্য সরকারের দৃষ্টি কামনা করছি।”

মোসলেম খান নামের আরেক জন বলছিনে, “আর্থিক ভাবে এই পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে। আমাদের এখন চাওয়া এই পরিবারকে আর্থিক ক্ষতি পূরণ দেওয়া হক। এ ঘটনায় চিকিৎসকের শাস্তি এবং ক্লিনিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”