১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহজালাল মাজারে তৃতীয়বারের মতো খোলা হয়েছে দানবাক্স, চলছে গণনা

প্রায় এক মাসের ব্যবধান মাজারের তিনটি ডেগ ও স্থাপন করা দানবাক্স খোলা হল।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Aug 2026, 04:50 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও স্থাপন করা দানবাক্স তৃতীয়বারের মত খোলা হয়েছে।

শনিবার সকালের দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "সর্বশেষ ১১ জুলাই দানবাক্স খোলা হয়েছিল। এরপর প্রায় এক মাসের ব্যবধান হয়েছে। এবারও সবার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যেই টাকা গণনা করা হচ্ছে।"

জেলা প্রশাসক বলেন, “স্থানীয় রাজনীতিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাজারের মুয়াল্লি এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে টাকা গণনা করা হচ্ছে। সাংবাদিকেরাও বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন। 

“অর্থ গণনা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অবিশ্বাস তৈরি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের বহু বছরের প্রথা ভেঙে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয় গত ২২ জুন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স স্থাপনের মাত্র চার দিনের মাথায় এ গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়।

পরে ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার দানবাক্স খোলা হয়; সেসময় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণ-অন্যান্য সামগ্রীও ছিল।

২য় দফায় গণনার প্রায় ৩৪ দিন দানবাক্স আর খোলা হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে দান জমা হওয়ায় এবার আগের তুলনায় বেশি অর্থ পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এর আগে গত ১২ জুন তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। এর কয়েক দিন পর, ১৮ জুন তার নির্দেশে মাজারের ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসানো হয়।

নতুন দানবাক্স স্থাপন নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। তারপর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন এটিকে নিয়মিত বদলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরে গত ২৬ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে একটি জরুরি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের পরিচালনা ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত কাঠামো বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

এ কমিটির কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “কমিটি কাজ করছে এবং নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগে কমিটির বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চান না তিনি। দ্রুতই এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।”