মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা নিল স্থগিত ম্যানেজিং কমিটি

বগুড়ার একটি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে আদালত; তারপরও এই কমিটি একটি পদের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছে।

বগুড়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 July 2022, 06:11 PM
Updated : 31 July 2022, 06:11 PM

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় একটি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি আদালতের নির্দেশে স্থগিত থাকলেও একটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

চিথুলিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় শনিবার এই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয় বলে আদালতে করা ওই মামলার বাদী জানান।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, চিথুলিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্টের ‘দুর্নীতি’ এবং ম্যানেজিং কমিটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে গঠন করা নিয়ে বগুড়া সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম।

জাহিদুল ইসলাম জানান, আদালত এই মামলায় শুনানি শেষে গত ২৩ জুন সুপারিনটেনডেন্টের কার্যক্রম ও ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং আগামী ৪ অগাস্ট শুনানির দিন ধার্য করে।

স্থানীয়রা জানান, ওই মাদ্রাসায় একটি পদে নিয়োগের জন্য স্থগিত ম্যানেজিং কমিটি এবং সুপারিনটেনডেন্ট শনিবার নিয়োগ পরীক্ষা শুরু করলে স্থানীয়রা গণমাধ্যমকর্মীদের খবর দেন।

গণমাধ্যমকর্মীরা মাদ্রাসায় গিয়ে স্থগিতাদেশের কপি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নিয়োগকৃত প্রতিনিধিকে দেখালে তিনি চুপ থাকেন।

বোর্ডের নিয়োগকৃত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমি মামলার বিষয়ে জানি না।”

পরে তাকে মামলার কপি সরবরাহ করলে তিনি বলেন, “এটা আমাকে অফিসিয়ালি পেতে হবে। আমাকে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে, আমি পরীক্ষা নিব। বাকি বিষয় আদালত পরে দেখবে।”

আদালতের স্থগিতাদেশের কপি পাওয়ার কথা স্বীকার করে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, “আমার এবং কমিটি স্থগিত লেখা আছে; কিন্তু নিয়োগের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তাই পরীক্ষা নিতে কোনো বাধা নেই। বোর্ড আমাদের পরীক্ষা নিতে বলেছে।”

মামলার বাদী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশের কপি যথাযথভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দেওয়া হয়েছে। তারপরও বোর্ড কীভাবে পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেয়? এ ছাড়া আদালতের স্থগিতাদেশের কপি বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া হয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম জানান, সুপার একরামুল নিজে প্রতিবন্ধী হিসেবে বাবার পেনশনের টাকা ভোগ করছেন। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিধিমালা অনুযায়ী শারীরীকভাবে অক্ষম কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হতে পারবেন না।

“একজন প্রতিবন্ধী বিধিভঙ্গ করে সুপার পদে কীভাবে আছেন? আদালতে আগামী ৪ অগাস্ট ধার্য তারিখে সব বিষয় উপস্থাপন করে স্থায়ী স্থগিতাদেশসহ আদেশ অমান্যেরও বিচার চাওয়া হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক