Published : 14 Sep 2026, 04:26 PM
মৌসুম এলেই বাংলাদেশের ইলিশের অপেক্ষায় থাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। বিশেষ করে দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি হবে কিনা, তা নিয়ে প্রতিবছর আলোচনা হয়। তবে এবার চিত্র ভিন্ন। ভরা মৌসুমে ভারত থেকেই বাংলাদেশে আসছে ইলিশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও অগাস্টে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ এসেছে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম।
ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং অগাস্টে তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের ঘোষিত মূল্য ছয় কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা।
এর মধ্যে জুলাইয়ে আসা ইলিশের মূল্য ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। অগাস্টে আসা ইলিশের মূল্য ছয় কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা।
জুলাই ও অগাস্টে মোট ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ইলিশ এনেছে।
পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, আমদানি করা ইলিশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমদানিকারকদের কোয়ারেন্টাইন সনদ দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, কাস্টমসের ছাড়পত্র ও বন্দরের শুল্ক পরিশোধের পর বাংলাদেশি ট্রাকে করে এসব ইলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা ইলিশের দাম দেশি ইলিশের তুলনায় অনেক কম।
তাদের হিসাবে, এক কেজি ২০০ থেকে এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশের দাম কেজিতে তিন হাজার ৩০০ থেকে তিন হাজার ৪০০ টাকা। একই আকারের আমদানি করা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ভারত থেকে আসা ইলিশকে পদ্মা, চাঁদপুর, বরিশাল বা চট্টগ্রামের ইলিশ বলে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে আসা ইলিশের বড় অংশ গুজরাটের ভারুচ অঞ্চল থেকে আসে। আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত নর্মদা নদীর মোহনায় এসব মাছ ধরা হয়।
তাদের ভাষ্য, এসব ইলিশ ডিমওয়ালা। বাংলাদেশের ইলিশের তুলনায় এসব মাছের আকার ছোট এবং স্বাদও কম। এ কারণে দামও কম।
গুজরাটের ইলিশে বেশি ডিম থাকায় ভারতের বাজারে এর চাহিদা কম- এমন দাবি ব্যবসায়ীদের। তাদের মতে, কম দামে পাওয়া যাওয়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে এসব ইলিশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা অনেক দিনের। তবে দেশের বাজারের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন সময়ে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ সরকার।
বাংলাদেশের রপ্তানি নীতি অনুযায়ী, ইলিশ শর্তসাপেক্ষে রপ্তানিযোগ্য পণ্য। সরকারের অনুমতি নিয়ে এটি রপ্তানি করা যায়। ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিয়ে আসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
তবে দেশে ইলিশের আহরণ কম থাকায় এবার রপ্তানি নিয়ে সংশয় রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি হয়নি। এরই মধ্যে দুই মাসে ভারত থেকে এসেছে সাড়ে তিন লাখ কেজির বেশি ইলিশ।