Published : 26 May 2025, 10:38 PM
কাস্টমস কর্মকর্তাদের ‘কলম বিরতি’ ও কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর আবারও কাজ শুরু হয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার এইচ এম শরিফুল হাসান বলেন, এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই বেনাপোল কাস্টমস হাউজে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এর ফলে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে কাস্টমস হাউস ও বেনাপোল বন্দরে। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন ব্যবসায়ীরা। সময়মত পণ্য খালাস নিতে না পারায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, সকাল থেকে কাস্টমস হাউজ, বন্দর ও আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে কাজে যোগ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। পণ্যের পরীক্ষণ ও শুল্কায়নের কাজ শুরু হওয়ায় সকাল থেকে কাস্টমস ও বন্দরে বন্দর ব্যবহারকারীদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ১৪ মে থেকে টানা ‘কলম বিরতি’ পালন করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
১৪ মে ‘কলম বিরতি’ দিয়ে শুরু হয়। প্রথম দিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘কলম বিরতি’ চলে। বাকি দিনগুলো বেলা ৩টা পর্যন্ত ‘কলম বিরতি’ পালিত হয়।
এর মধ্যে ১৬ মে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। ২০ মে ও ২২ মে পুরোপুরি কাজ চলে। কিন্তু ২১, ২৪ ও ২৫ মে পূর্ণদিবস ‘কলম বিরতি’ পালিত হয়।
সাজেদুর বলেন, প্রতিদিন পেট্রাপোল বন্দর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ ট্রাক আসে বেনাপোল বন্দরে। আর বেনাপোল দিয়ে দুই থেকে আড়াইশ ট্রাক রপ্তানি পণ্য নিয়ে যায় ভারতে। দেশের ৭৫ ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন, এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর কাস্টমস হাউজে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরাও পণ্য উঠানামা ও খালাস প্রক্রিয়ায় দ্রুত কাজ করে যাচ্ছেন।
রোববার রাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানায় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির অধ্যাদেশটি সংশোধনের আশ্বাস দেওয়া হয়। জানানো হয়, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অধ্যাদেশটি সংশোধন করে এনবিআরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত বিভাগে রূপান্তর করা হবে।