Published : 25 May 2025, 09:04 PM
শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন তার সহপাঠীরা।
রোববার দুপুরে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে অধ্যক্ষের কাছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মেডিকেলের ৫০তম ব্যাচের আয়োজনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামের দর্জি সুধীর বাড়ৈর ছেলে সজীব বাড়ৈ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের ৫০তম ব্যাচের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভোগছিলেন। মাঝে চিকিৎসাও করান। পড়াশোনায়ও পিছিয়ে পড়েন। তার সহপাঠীরা সবাই ইন্টার্ন করছেন।
১৯ মে নিজের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে সজীব আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ-তে ছিলেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ২৪ মে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
আত্মহত্যাচেষ্টার আগে সজীব একটি নোটও লিখে গিয়েছেন। সেখানে লিখেছেন, “নিজের সাথে যুদ্ধ করে করে ক্লান্ত আমি। একটু বিশ্রাম চাই। ক্ষমা করে দিও। এত ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারলাম না।”
রোববার দুপুরে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামে সজীবের অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
সহপাঠীরা জানান, সজীবের পরিবার খুব গরিব। মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর আর্থিক কারণে তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তখন মানুষের সহায়তায় তিনি মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে তার বাবাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ও পরিবারের আশা ছিল, তিনি চিকিৎসক হয়ে গ্রামের মানুষের চিকিৎসা করবেন।
মেডিকেল কলেজের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আজিমুল ইসলাম বলেন, দুই বছর ধরে প্রধানত বিষন্নতাজনিত ব্যাধিতে ভুগছিল সজীব। তার এমন মানসিক অবস্থার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষক কাজী মো. আসাদুজ্জামান রুমি। বিভাগও এর দায় এড়াতে পারে না।
“একজন পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে চাপে রেখে কীভাবে তিলে তিলে শেষ করে দেওয়া যায় তার বড় প্রমাণ দেখা গেলে সজীব বাড়ৈর ঘটনার মধ্য দিয়ে।”
কলেজ অধ্যক্ষের কাছে ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগে শিক্ষক কাজী মো. আসাদুজ্জামান রুমির অপসারণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ফয়জুল বাশার।
তিনি বলেন, “এটি পাওয়ার পর পরই স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি লিখিত স্মারক পাঠানো হয়েছে। ওই স্মারকে শিক্ষার্থীদের দাবির কথা উল্লেখ করে কাজী মো. আসাদুজ্জামানকে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে।”
এ ব্যাপারে জানতে সন্ধ্যায় অধ্যাপক কাজী মো. আসাদুজ্জামানের মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গ্রামের বাড়িতে সজীবের বাবা সুধীর বাড়ৈ বিলাপ করে বলছিলেন, “আমি অসুস্থ। আমার ছেলে বলত, বাবা আমি ডাক্তার হয়ে তোমার চিকিৎসা করব। গ্রামের মানুষের চিকিৎসা করব। তার অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন সে আমাদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছে। তাকে আর কোনোদিন পাব না। আমরা এখন কী আশা নিয়ে বাঁচব?”