১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

টুঙ্গিপাড়ায় শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ, চড় থাপ্পড়ে ‘মিমাংসা’

যুবককে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার জন্য তার বাবাকে পরামর্শ দেন মাতবররা। বিয়ে না দিলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে বলেন তারা।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Nov 2025, 06:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:42 PM

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সি এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। 

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গ্রামের মাতুব্বরেরা সালিস বৈঠকে ধর্ষণের চেষ্টাকারী যুবককে কয়েকটি চড় থাপ্পড় ও দ্রুত বিয়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। 

এতে ঘটনার ‘মীমাংসা’ করা হয়েছে দাবি করে তারা বিষয়টি নিয়ে শিশুর পরিবারকে বাড়াবাড়ি না করার জন্যও বলেছেন। 

গত ৮ নভেম্বর রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় স্থানীয় মাদ্রাসার প্লে শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার এ ঘটনা ঘটে। 

শিশুটির বাবা বলেন, “আমার মেয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় পাশের একজন হুজুরের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। শনিবার আমরা একটু ব্যস্ত থাকায় রাত ৮টায় মেয়েকে প্রাইভেট থেকে নিয়ে আসতে বলি ভাতিজাকে (২২)। 

“কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে সে আমার মেয়েকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় সে। তখন হঠাৎ করে স্থানীয় এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে টর্চ জ্বালালে মেয়েকে ফেলে ভাতিজা পালিয়ে যায়। পরে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে দিয়ে যান ওই ব্যক্তি। 

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা আরও বলেন, “রাতেই বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন ৯ নভেম্বর সালিস বৈঠকে বসেন স্থানীয় কয়েকজন মাতুব্বর। তারা ভাতিজাকে কয়েকটি চড় থাপ্পড় মারে ও আগামীতে এমন কাজ না করার জন্য শাসিয়ে দেয়।” 

এছাড়া ভাতিজাকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার জন্য তার বাবাকে পরামর্শ দেন মাতবররা। বিয়ে না দিলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে সালিস শেষ করে দেন তারা। 

এরপর বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে জানিয়ে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য শিশুর পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করেন মাতুব্বররা।

মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা আরও বলেন, “ তাদের চাপে ও মেয়েটির ভবিষ্যতের চিন্তায় থানায় লিখিত অভিযোগ করিনি। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই। যদি ওই যুবকের উপযুক্ত বিচার না হয় তাহলে আগামীতে এ রকম ঘটনা আবারও ঘটাতে পারে।” 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই সালিসে অংশ নেওয়া গ্রামের মাতুব্বর রেজাউল করিম ও হানিফ মুন্সি প্রথমে ধর্ষণ চেষ্টার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তা স্বীকার বলেন, ঘটনাটি নিজেদের মধ্যে ঘটেছে। তাই সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্ত যুবককে শাসন করা হয়েছে। আর গ্রাম থেকেও তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।  

এছাড়া থানায় অভিযোগ করতে কেন বাধা দিয়েছেন- এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর দেননি ওই মাতুব্বরেরা।

বিষয়টি ‘মৌখিকভাবে’ শুনেছেন জানিয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, “কিন্তু এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা বা নিপীড়ণের কোনো বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বরেরা এভাবে সালিস দিতে পারেন না। পরিবারের অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”