১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় ১৫ কিলোমিটার যানজট

সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তিন মাসে একাধিকবার এসব গর্ত ইট–বালু দিয়ে সংস্কার করা হলেও টেকেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jul 2025, 03:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:21 PM

বৃষ্টিতে খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা। 

বুধবার রাত ৮টার দিকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে যানজট শুরু হয়ে সরাইল উপজেলার বেড়তলা, শান্তিনগর, বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া মোড় ছাড়িয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় আশুগঞ্জ থেকে সরাইলের বাড়িউরা পর্যন্ত যানজট ছিল।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মামুন রহমান বলেন, টানা বৃষ্টিতে বিশ্বরোড মোড় থেকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর পর্যন্ত সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেহাল সড়কে গাড়ির ধীরগতির কারণে যানজট তৈরি হয়েছে। 

এ যানজট কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ও সরাইল-নাসিরনগর-লাকাই আঞ্চলিক মহাসড়কেও প্রভাব ফেলেছে। মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে। নারী-পুরুষসহ যাত্রীরা বৃষ্টিতে ভিজে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।

ছেলে-মেয়েকে নিয়ে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে দিগন্ত বিজনেস ক্লাস বাসে উঠেছেন মোছাম্মদ জেসমিন আক্তার। তিনি বলেন, “ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি, কিন্তু ৩ ঘণ্টা ধরে বসে আছি বাসে। কবে পৌঁছাব জানি না।”

বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের কেনা গ্রামের খাবিবুর রহমান মনির বলেন, “চিকিৎসার জন্য ঢাকা রওয়ানা হয়েছিলাম। কিন্তু ১ ঘণ্টা হয়েছে বসে আছি, ডাক্তার দেখাতে পারব কিনা জানি না। ”

সিলেট থেকে কুমিল্লাগামী পণ্যবাহী ট্রাকচালক কামাল মিয়া বলেন, “এক ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। মনে হচ্ছে যানজরটর এলাকা পার হতে সারা দিন চলে যাবে।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ সূত্র জানায়, ভারতকে ট্রানজিট–সুবিধা দিতে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে।

ভারতীয় ঋণে ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ভারতের এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। 

গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দেশ ছেড়ে চলে যান ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। প্রায় তিন মাস পর তারা ফিরে এলেও কাজের গতি আর আগের মতো হয়নি।

এতে সরাইল বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বর, শান্তিনগর ও আশুগঞ্জের খড়িয়ালায় এলাকার সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তিন মাসে একাধিকবার এসব গর্ত ইট–বালু দিয়ে সংস্কার করা হলেও টেকেনি। 

এর মধ্যে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে গর্তগুলো আরও বড় আকার ধারণ করেছে। সেজন্য সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজটের।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মামুন রহমান বলেন, “লোকাল বাসগুলো কোনো নিয়ম মানছে না। এ ছাড়া যানজটের কারণে আমরা কোথাও মুভও করতে পারছি না। চার লেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ না হলে এ অবস্থার উন্নতি কঠিন।”

এর আগে সকালের দিকে যানজট বিজয়নগরের চান্দুরা সাতবর্গ অংশ পর্যন্ত ছড়িয়েছিল জানিয়ে কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চান্দুরার রামপুরা এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ঐদিকে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সেখানে এখন যানজট নাই। 

সড়কে যানজট কমাতে পুলিশ তৎপর আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।