Published : 17 May 2026, 01:58 PM
কক্সবাজারের উখিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকের একটি পোস্টে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের হামলায় এক নারী নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান।
নিহত ছৈয়দা বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা সাব্বির আহমদের স্ত্রী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয়তু শেখ হাসিনা’ লেখা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি লেখালেখি চলছিল। এর মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রদলের কর্মী জিসান সিকদার দেয়াল লিখন নিয়ে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন।
সেই পোস্টে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট দেন টাইপালং এলাকার মোহাম্মদ ইউনুস। পরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। ইউনুস নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
অভিযোগ উঠেছে, শনিবার রাতে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ইউনুসকে আটক করে মারধর শুরু করেন। এ সময় ইউনুসকে রক্ষা করতে গেলে তার বন্ধু ও স্থানীয় এনজিওকর্মী এস এম ইমরানকেও মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তার ওপরও হামলা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এস এম ইমরান অভিযোগ করেন, “আমি আর আমার বন্ধু ইউনুস স্টেশনের একটি দোকানে বসে ছিলাম। অতর্কিতে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম ও তার ছেলে আকাশ, বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার, শ্রমিকদল নেতা সাইফুল সিকদারসহ ১০/১২ জন আমাদের ওপর হামলা চালায়।
“তারা আমাদের মারধরের একপর্যায়ে আমার মা ছুটে এসে আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তারা আমার মাকেও মারে।”
তিনি বলেন, “আমরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমার মাকে যারা মেরেছে, আমি তাদের বিচার চাই।”
তবে ঘটনার পর রাতেই অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার। তারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা সেখানে ছিলেন না।
জিসান সিকদার বলেন, “আমাকে ও আমার বাবাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে, তদন্তে নারী যদি হামলায় মারা যায় এবং বিএনপির কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, “ফেইসবুক পোস্টে ‘হা-হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় নিহত নারী আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, “সুরতহাল প্রতিবেদনে নারীর শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। নিহত নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় রোববার সকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে মোহাম্মদ ইউনুসকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।