২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ডোবায় শাবকের মৃতদেহ, পাশে তিন দিন দাঁড়িয়ে হাতি দম্পতি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে শাবকটি উদ্ধার করে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

বান্দরবান প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Apr 2026, 09:17 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় হৃদয়বিদারক একটি দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন এলাকাবাসী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা। অগভীর একটি ডোবায় পড়ে থাকা শাবকের মৃতদেহের পাশে তিন দিন ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল শোকে কাতর হাতি দম্পতি।

তিন দিন পর হাতি দম্পতি সরে গেলে বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত শাবকটি উদ্ধার করে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তানভীর চৌধুরী।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বটতলা মুসলিমপাড়া। এলাকাটি বান্দরবানে হলেও এর বনাঞ্চল কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে।

সোনাইছড়ি ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা দিপঙ্কর চাকমা বলেন, মঙ্গলবার থেকে একটি টিলার পাদদেশে ঘোলা পানির ডোবায় একটি হাতির শাবকের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মৃতদেহের বেশিরভাগ অংশ ডুবে আছে।

“এর পাশেই ডোবার জলে অর্ধেক শরীর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল মা হাতি। কিছুটা দূরে ডোবার কিনারায় ঠায় দাঁড়িয়ে একটি পুরুষ হাতি। তিন দিন ধরে তারা মৃত শাবকটির পাশ ছাড়েনি। 

“রাতে পুরুষ হাতিটি খাবারের সন্ধানে জঙ্গলে গেলেও আবার ফিরে এসে অবস্থান নেয়। একইভাবে মা হাতিও অল্প সময়ের জন্য খাবার সংগ্রহ করে আবার শাবকের কাছে ফিরে আসে।”

রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর চৌধুরী বলেন, তিন দিন আগে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় একটি মৃত হাতির শাবক পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তারা। কিন্তু মা ও বাবা হাতির পাহারার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, দুপুরে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে মৃত শাবকটি উদ্ধার করে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা দেওয়া হয়। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে উদ্ধার কাজ কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া হাতি দম্পতির অবস্থানের কারণে কর্মকর্তারা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে পারেননি।

“সোনাইছড়ি এলাকা দিয়ে হাতির একটি চলাচলের পথ (করিডোর) রয়েছে। ওই পথ দিয়ে চলাচলের সময় টিলা থেকে পড়ে ডোবায় পড়ে শাবকটি মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শাবকটির বয়স আনুমানিক ছয় থেকে সাত মাস”, বলেন তিনি। 

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।