Published : 21 Jul 2025, 04:33 PM
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় সাপের কামড়ে আহত হয়ে তিনজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত সময়ে তারা এসেছেন। তিনজনই সাপ মেরে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. এবাদত হোসেন জানান।
আহত তিনজন হচ্ছেন- উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের সুবর্ণখোলা গ্রামের মৃত হাতেম মণ্ডলের ছেলে কৃষক আজিজ মণ্ডল (৬৫), একই ইউনিয়নের নাদুরিয়া গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের স্ত্রী হাসিনা খাতুন (৫৫) এবং উপজেলার যশাই ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের তারেক শেখের ছেলে আসিফ শেখ (১৮)।
আহত কৃষক আজিজ মণ্ডল বলেন, “সোমবার সকালে পাট জাগ দেওয়ার সময় পাটের সঙ্গে যে একটা সাপের বাচ্চা ছিল, সেটা আমি দেখি নাই। পাট ধরার সঙ্গে সঙ্গেই সাপের বাচ্চাটি আমার ডান হাতে কামড় দেয়।
“পরে সাপটি মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তার বলছে, এটা গোখরা সাপের বাচ্চা।”
আহত হাসিনা খাতুন বলেন, “সকালে ভাত রান্না করার সময় আমার পায়ে পিঁপড়ার মত কিছু একটা কামড় দেয়। তাকিয়ে দেখি একটি সাপ কামড় দিয়েছে। তখন বাড়ির সবাই সাপটিকে মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসে।”
আহত আসিফ শেখ বলেন, “রাতে আমাদের বাড়ির পাশে একটি ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় আমার পায়ে কিছু একটা কামড় দেয়। লাইট মেরে দেখি সাপ।
“পরে সাপটি মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তার চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাখছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. এবাদত হোসেন বলেন, “২৪ ঘণ্টায় সাপে কাটা তিন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। তারা সবাই বিষধর গোখরা সাপ সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। সব কয়টা সাপ মৃত ছিল।
“রোগীদের মধ্যে বিষাক্ত সাপে কাটার লক্ষণ রয়েছে। আমরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তবে এখনো রোগীদের মধ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়নি, তাই অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করা হয়নি।”
চিকিৎসক বলেন, “আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুদ রয়েছে। রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ভেনম প্রয়োগ করা হবে।”