ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়ানোর মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কারাগারে
ময়মনসিংহে গত বছরের নভেম্বরে ওই তরুণীকে জিম্মি করে ধর্ষণ ও এর ভিডিও ধারণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় তরুণীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন।
বুধবার বিকালে ময়মনসিংহের মুখ্য বিচারিক হাকিম দেওয়ান মনিরুজ্জামান আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই মো. আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার রাতে ইমরান হাসান সিজানকে (২৮) ঈশ্বরগঞ্জ সদর হাসপাতাল রোডের ধামদী এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে এপিবিএন-২ সাইবার ক্রাইম শাখা।
ইমরান ঈশ্বরগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।
মামলার বরাতে এসআই আমিনুল বলেন, “ইমরান তার এক বন্ধুর মাধ্যমে কৌশলে ওই তরুণীর নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা হয়। গত বছরের নভেম্বরে ইমরান ওই তরুণীকে বাসায় ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রথমে আপত্তিকর ছবি এবং পরে ধর্ষণ ও এর ভিডিও ধারণ করেন।
“এরপর থেকে ওই আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ওই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন ইমরান। সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর আবারও তাকে কুপ্রস্তাব দিত ইমরান।
“এতে রাজি না হওয়ায় ইমরান ওই ভিডিও ফেইসবুকের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর স্বামীর ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেন।”
এসআই বলেন, এ ঘটনায় ওই তরুণী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে আইনি সহযোগিতা চাইলে তাকে এপিবিএন-২ এর মুক্তাগাছায় ডাকা হয়। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআই আমিনুল বলেন, ইমরানকে গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তর করে এপিবিএন। পরে ওই তরুণী বাদী হয়ে ইমরানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।
বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
