১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা পাড়ে অবস্থানের প্রস্তুতি

সোমবার-মঙ্গলবার লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১১টি স্থানে লাখো মানুষ ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার অবস্থানে থাকবে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Feb 2025, 11:51 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:33 PM

‘জাগো বাহে-তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছে উত্তরের পাঁচ জেলার মানুষ। 

তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এ কর্মসূচির জন্য সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। 

বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দুলু বলেন, সোমবার ও মঙ্গলবার লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ১১টি স্থানে লাখো মানুষ ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার অবস্থানে থাকবে। 

“আন্দোলনের রাতে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হাজার হাজার মশাল জ্বালানো হবে।”

তিনি বলেন, এই কর্মসূচিতে সোমবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বশরীরে উপস্থিত থাকবেন আর মঙ্গলবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কলে যুক্ত থাকবেন।

তিস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ মাধ্যমে কাজ করে আসছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী মিজানুর রহমান দুলাল। 

তিনি বলেন, “তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে এবার সফল হবে উত্তরের লাখো মানুষের এই ঐক্য। তিস্তা নিয়ে বিগত সরকার তিস্তাপাড়ের মানুষের সঙ্গে এক প্রকার ধোঁকাবাজি করেছে। 

“তবে এবারের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দাবি আদায়ে তিস্তা পাড়ের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য দেখা দিয়েছে তাতে করে মনে হচ্ছে এবারে কিছু একটা হবেই।”

স্থানীয়দের মতে, এই আন্দোলন বাংলাদেশের পানিসম্পদ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে নদীর তীরে বসবাসকারী কৃষকরা প্রতিবছর একই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

এদিকে আন্দোলনের আগে আকস্মিকভাবে উজানের ঢলে তিস্তায় পানি বেড়ে গেছে। যেখানে শনিবার সকালেও ধূ-ধূ বালুচর দেখা যাচ্ছিল, সেখানে বিকাল থেকে বইছে পানি।

শনিবার দুপুরে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, “তিস্তায় কিছুটা পানি বেড়েছে, তবে এতে কোনো বড় ক্ষতি হবে না। ব্যারাজের জলকপাট বন্ধ রাখা হয়েছে পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য।”

তবে শুকনো বালুচরে হঠাৎ বইতে শুরু করা পানির প্রবাহ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, ভারতের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে এই সময় পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তিস্তা আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হয়।

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, “ভারত জানে এবারের আন্দোলন ঐতিহাসিক হতে যাচ্ছে। তাই তারা পানি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

হাতীবান্ধার কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, “এই সমাবেশ ঘিরে সব দল-মত নির্বিশেষে এক হয়েছে। ভারতের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে তাই পানি ছেড়ে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা পিছু হটবো না।”