Published : 20 Feb 2026, 07:11 PM
গোপালগঞ্জের মকসুদপুর উপজেলায় রাতের অন্ধকারে পাঁচ একর পেঁয়াজ ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে ঝলসে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দাশেরহাট গ্রামের এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজের ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তিনি ছত্রাকনাশক, কুইক পটাশ ও পিজিয়ার স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন।
জমির মালিক মতিয়ার রহমান খান বলেন, “আমাদের এলাকায় পেঁয়াজের আবাদ আগে তেমন ছিল না। পাশের ফরিদপুর জেলার সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার কৃষকরা এখানে এসে জমি লিজ নিয়ে পেঁয়াজের চাষ শুরু করেন। এখানে পেঁয়াজের ফলন বেশি। তাই, প্রতি বছর পেঁয়াজের চাষাবাদ বাড়ছে।
“আগে এখানে স্থানীয় কৃষকরা জমি লিজ নিয়ে বছরে আমাদের বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দিত। কিন্তু সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা বছরে বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকা দিচ্ছেন। এখন স্থানীয় কৃষকরা জমি লিজ নিতে পারছেন না। এ এলাকা থেকে তাদের তাড়াতে চাইছে। এ কারণে হয়ত কেউ কেউ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।”
ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ চাষি ইমরান মিয়া, বসার মিয়া, আজাদ ফকির বলেন, তাদের বাড়ি ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে। তারা তিনজনে মিলে ১৫ একর জমিতে পেঁয়াজের চাষাবাদ করেছেন। এতে অন্তত ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখানে অন্তত তিন হাজার মণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হত।

ইমরান মিয়া বলেন, “এর মধ্যে পাঁচ একর জমির পেঁয়াজে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে পচনশীল ওষুধ ছিটিয়ে দেয়। কিন্তু আমরা এটা বুঝতে পেরেছি দেরীতে। এখন পেঁয়াজ গাছ ঝলসে যাচ্ছে। আগে বুঝতে পারলে ক্ষতি সামলে নেওয়া যেত। কিন্তু এখন এক হাজার মণ পেঁয়াজ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। এতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”
কৃষি কর্মকর্তা ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি যেভাবে পরামর্শ দিয়েছেন সেভাবে পরিচর্যা করছেন বলে জানান ইমরান মিয়া।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এ বছর উপজেলায় ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ১ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে দাসেরহাট গ্রামে এক মাঠেই ২০০ হেক্টরে পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে। ওই পেঁয়াজ মাঠে এ ঘটনা ঘটেছে।
“পেঁয়াজ মাঠের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে প্যারাকুয়েট নামক আগাছা নাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ একর জমির পেঁয়াজ আক্রান্ত হয়েছে। ফলে পেঁয়াজ গাছ শুকিয়ে মারা যাওয়ার অবস্থা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পেঁয়াজ নষ্টের আশঙ্কাও রয়েছে।”
তিনি বলেন, “তবে কারবেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক দুইদিন পরপর ও কুইক পটাশ স্প্রে করতে হবে। গাছ একটু রিকভার করলে পিজিয়ার স্প্রে করলে ক্ষতি কিছুটা কম হবে।”

ওই কর্মকর্তা বলেন, “ফরিদপুর জেলার কৃষকরা এ উপজেলায় এসে বেশি টাকা দিয়ে জমি লিজ নেন। তারা পেঁয়াজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এ উপজেলায় ফরিদপুরের পেঁয়াজ চাষিদের চাষাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন তাদের এ উপজেলা থেকে বিতারিত করতে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে আমি ধারণা করছি।”
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুকসুদপুর থানার এসআই মাসুদ রানা বলেন, “১১ ফেব্রুয়ারি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ওসি স্যার এটি তদন্তের জন্য আমাকে দায়িত্ব দেন। নির্বাচন নিয়ে আমরা ব্যস্ত ছিলাম। তাই ১৫ ফেব্রুয়ারি আমি ঘটনাস্থলে গেছিলাম। এখানে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখন মামলা প্রস্তুতি চলছে।”