ভারতীয় যুবক বরিশালে, জিডি করলেন কলেজছাত্রীর বাবা

প্রেমাকান্তের ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ফেইসবুকে তার পরিচয় হয় ২০১৯ সালে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বরিশাল প্রতিনিধিবরগুনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 06:56 PM
Updated : 5 August 2022, 06:56 PM

ফেইসবুকে পরিচয়ের সূত্রে ভারতের তামিলনাড়ু থেকে বরিশাল আসা এক যুবকের বিরুদ্ধে উত্ত্যক্ত ও সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ করেছেন এক কলেজছাত্রী ও তার পরিবার।

তাদের অভিযোগ, প্রেমকান্ত (৩৬) নামের ওই যুবক তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বদনাম ছড়িয়েছেন। সামাজিকভাবে হেয় করেছেন।

তবে প্রেমাকান্তের দাবি, ফেইসবুকে তিন বছর আগে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের এই ছাত্রীর বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলায়।

বরগুনার তালতলী থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মেয়েটির বাবা শুক্রবার সন্ধায় তার মেয়ের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডির বরাতে ওসি বলেন, মেয়েটির বাবা অভিযোগ করেছেন তার মেয়েকে প্রেমাকান্ত অশালীন প্রস্তাব দিয়ে ঢাকা নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। মেয়ে এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রেমাকান্ত তালতলী চলে যান। ওই যুবক তার মেয়ের যেকোনো ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। তিনি তার মেয়ের নিরাপত্তা চান।

ওসি আরও বলেন, “প্রেমাকান্ত তালতলী এসেছিল, সন্ধ্যায় আবার বরগুনা ফিরে গেছে বলে জেনেছি। যেহেতু চলে গেছে এবং এখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তাই এ ব্যাপারে এখন করার কিছু নেই।”

তবে প্রেমাকান্ত যদি এখানে কোনো ঝামেলা করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি জানান।

এই ভারতীয় যুবক পুলিশকে বলেছেন, ফেইসবুকে তাদের পরিচয় হয় তিন বছর আগে, ২০১৯ সালে। এক পর্যায়ে মেয়েটির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। করোনা মহামারীর কারণে এতদিন আসতে পারেননি।

তিনি বৈধভাবে বাংলাদেশে এসেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শুক্রবার এই ছাত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ফেইসবুকে তো কত মানুষের সাথে কথা হয়। তামিলনাড়ুর প্রেমকান্তের সাথেও তার কথা হয়। এক পর্যায়ে ওই যুবক বিয়ের প্রস্তাব দেন।

“তখন তার প্রস্তাব আমি ডিনাই করি। তখন ও বলে বাংলাদেশে এসে একবার সামনা সামনি দেখে চলে যাবে।

“আমি বাড়ি চলে এসেছি। এরপর সে বলে আমি এসেছি। সে কলেজে গিয়ে ঝামেলা করেছে। আমার ফ্রেন্ডদের সাথে ঝামেলা করেছে। আর এখন বদনাম করছে; এখন নাকি আমি লোক দিয়ে তাকে মারাইছি। এসব ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।”

এই বিষয়ে কলেজছাত্রী বলেন, প্রেমকান্ত মিডিয়ায় তার সম্পর্কে কথা বলার পর পুলিশ তাকে অভিযোগ দিতে বলেছিল। কিন্তু প্রেমকান্ত জানিয়েছে তার কোনো অভিযোগ নেই। এরপর পুলিশ তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়।

মেয়েটির ভাষ্য, ওই সময় তিনি থানায় অভিযোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাকে সান্ত্বনা দেয় যে প্রেমকান্তকে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না। ঝামেলা হলে তারা দেখবেন। এ কারণে প্রেমকান্তের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেননি। তা নাহলে ওইদিন তার বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা নিতেন।

প্রেমকান্তের কারণে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন উল্লেখ করে মেয়েটি তার শাস্তি দাবি করেছেন।

এই কলেজছাত্রীর বাবার সঙ্গেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কথা হয়।

তিনি বলেন, ওই ছেলেটির সাথে মেয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়। এরপর ছেলেটি বরিশাল চলে আসে। ছেলেটির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ও মেয়েকে এয়ারপোর্ট থানায় ডেকে নেয়। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থানায় যান।

“সেখানে থানার ওসি আমার মেয়ের কাছ থেকে সকল ঘটনা শোনেন। মেয়ে যা আমার কাছে বলেনি, তা পুলিশের কাছে বলেছে। আমার মেয়ের সাথে ওই ছেলের কোনো সম্পর্ক ছিল না – এটা সত্য।”

এখন ওই ছেলেটি ভারত থেকে এসে তাদের সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতি করছে উল্লেখ করে তার জন্য দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার চেয়েছেন।

একই সঙ্গে তার মেয়ের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকটা দেখার জন্য সরকারের কাছেও আবেদন জানান।

বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই তরুণী যৌন হয়রানির শিকার হলে বরিশাল অথবা বরগুনার যেকোনো থানায় আইনি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

“আমি তো মনে করেছিলাম ঢাকার বাসে তুলে দিয়েছি, সে ভারতে চলে যাবে। সে ভারতে না গিয়ে আবার ফিরে আসে। বরিশালে অবস্থান করে ওই তরুণীকে কোনোভাবে ক্ষতি করলে ওই তরুণীকে অবশ্যই আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় সাংবাদিকদের অপেক্ষায় রেখেও দেখা করেননি প্রেমকান্ত।

প্রেমকান্তের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমাকান্ত গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশে আসার পর প্রেমিকার নির্দেশনা অনুসারে বরিশালে আসেন। এসে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করেন। তবে তার প্রেমিকার আরেক প্রেমিক বরিশাল শহরে তাকে আটক করে মারধর করেছেন এবং টাকা নিয়ে যান। এরপর তিনি এয়ারপোর্ট থানায় বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি তার প্রেমিকাকে না পেলেও শেষবারের মতো একবার দেখা করতে চান।

প্রেমকান্ত পুলিশকে জানান, তিনি নেটওয়ার্কিং ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছেন। এছাড়া তিনি নাচে বেশ ভালো। নাচের সূত্র ধরেই বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার ওই কিশোরীর সঙ্গে পরিচয় তার।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক