১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস: লক্ষ্মীপুরে সভায় ছাত্রদল-শিবিরের হট্টগোল

অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সমালোচনা করে ছাত্রশিবির নেতা বক্তব্য দিলে এ ঘটনা ঘটে।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 05:55 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরে এক সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সমালোচনা করে ছাত্রশিবির নেতার দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রাজনৈতিক নেতাদের সামনেই ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল হয়। তবে অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দাওয়াত পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা প্রশাসন আয়োজিত বুধবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা।

অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদি হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসা, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যাহ, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি জহির উদ্দিন, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাহেদুর রহমান রাফি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরমান হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শিবির নেতা সারোয়ার হোসেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যানিকে নিয়ে সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। এতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছিরুজ্জামান রাহাতসহ নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। 

এ ঘটনায় পুলিশ সুপার, ইউএনওসহ রাজনৈতিক নেতারা তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। সভায় সারোয়ারের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদও বিএনপির সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। 

শিবির নেতা সারোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, “২৫ জুলাই শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরপরে আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিছেন, উনি কি জানেন? আমাদের সাইফুল ইসলাম মুরাদকে উনি নাকি চিনেন না। মুরাদকে আপনারা না চিনতে পারেন, লক্ষ্মীপুর ও সারাদেশের মানুষ চিনে।”

এ বক্তব্যের পরই তাৎক্ষণিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় সারোয়ার বলেন, “শান্ত হন আপনারা। বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবেন না।”

লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদল সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, “আজকের প্রোগ্রামের প্রশাসন আমাদেরকে দাওয়াত দেইনি। এরপর আমাদের কয়েকজন নেতা সেখানে গিয়েছেন। সেখানে শিবিরের কর্মীরা উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দেন। এতে আমাদের নেতারা প্রতিবাদ করেছেন।”

লক্ষ্মীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, “জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমিও এখানে দাওয়াত পাওয়ার কথা। কিন্তু আমি দাওয়াত পাইনি। জুলাই নিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে, সেখানে বৈষম্য করা হয়েছে। এখনো যদি বৈষম্য করা হয়, তবে তা দুঃখজনক ব্যাপার।” 

ইউএনও ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, “ঘটনার সময় ডিসি ও এসপি স্যারসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটি ছিল জেলা প্রশাসনের। সরকারি প্রোগ্রাম হলে বক্তাদের কিছুটা রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরে তা স্বাভাবিক হয়।”

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক সাংবাদিকদের বলেন, দুপক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে। তবে তেমন বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।