১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, বিএনপি নেতাসহ আসামি ১৪

নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে ক্ষোভে ও অপমানে স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, বিএনপি নেতাসহ আসামি ১৪
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানা।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2026, 06:01 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রেমের অপবাদ দিয়ে বিদ্যালয়ের আঙিনায় ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে বিএনপির নেতাসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার পাঁচ দিন পর রোববার রাতে নির্যাতনের শিকার তরুণের বাবা বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর সার্কেল) নাফিছুর রহমান।

মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে; যাদের মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

সোমবার প্রধান আসামিকে আদালতের মাধ্যমে করাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আসামিরা হলেন- উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় গ্রামের ধলাই গোলদারের ছেলে নয়ন গোলদার (৪৫), একই এলাকার গোবিন্দ রায়ের ছেলে সাগর রায় ওরফে সম্রাট (১৯), সঞ্জিত সিকদারের ছেলে সনাতন সিকদার (২০), স্বপন রায়ের ছেলে মিশন রায় (১৯), উজ্জ্বল বিশ্বাসের ছেলে জিৎ বিশ্বাস (২০), মন্টু মণ্ডলের ছেলে অনিক মণ্ডল (১৯), নরোত্তম সিকদারের ছেলে জয় সিকদার (২২) এবং রথিন বিশ্বাসের ছেলে চয়ন বিশ্বাস (২৩)।

এর মধ্যে প্রধান আসামি নয়নকে রোববার ভোরে মাদারীপুরের রাজৈর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নির্যাতনের শিকার রাহুথড় গ্রামের তরুণ (১৯) সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ী কর্ণ কুসুম মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। আর ১৩ বছরের মেয়েটি কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।

২৮ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে ওই তরুণ টিফিনের সময় ওই বিদ্যালয়ে পাশে গিয়ে স্কুলছাত্রীর সঙ্গে কথা বলছিল। এ সময় আসামিরা দেশি অস্ত্র নিয়ে স্কুলছাত্রীকে টেনে-হিঁচড়ে যৌন হয়রানির পাশাপাশি ওই তরুণকে আটক করে মারধর করেন।

পরে দুইজনকে আটক করে বিদ্যালয়ের ভিতরে নিয়ে গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে বেঁধে চড় থাপ্পড় ও কিল ঘুষি মেরে নির্যাতন করা হয়। সেইসঙ্গে তরুণের কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

টাকা না দিলে তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয়। খবর পেয়ে ভুক্তভোগী যুবকের মামা চাঁদা হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরদিন ২৯ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ও অপমানে স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। প্রথমে তাকে হাতিয়াড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং পরদিন গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হলে তাকে বাড়ি নিয়ে যান স্বজনরা। 

তবে এ ঘটনার পর থেকে নির্যাতনের শিকার ছাত্রী ও তরুণের অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। 

সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান বলেন, গাছে বেঁধে নির্যাতনের পরপর নয়ন গোলদার আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে রাজৈর থেকে আটক করা হয়। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রী-যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন: বিএনপি নেতা আটক

গোপালগঞ্জে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, বিষপানের পর হাসপাতালে স্কুলছাত্রী